চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গুগলে যা হয়, আমাদের গ্রামে-গঞ্জেও তাই

পৃথিবী কাঁপানো গুগল, আমরা সবাই যার কাছে নিজেদের বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানগম্যি জমা দিয়ে বসে আছি। মনে করি, গুগল যা জানে তা আমরা কেউ জানি না। আমাদের সবার প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে গুগলে। বাচ্চা থেকে বুড়ো সবার অন্যতম তথ্যভাণ্ডার গুগল। বইপড়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছি আমরা। কারণ আমরা তো গুগল পড়ি বা গুগল করি। সেদিন পত্রিকায় দেখলাম যৌন হয়রানির প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে গুগলের অফিসগুলোতে শত শত কর্মী গত বৃহস্পতিবার কর্মবিরতি পালন করেছেন। অথচ দুনিয়া জুড়ে কোথায়, কতজন নারী, কিভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে এ তথ্যও আমরা পাচ্ছি গুগল থেকেই। আন্দোলনকারীরা…

ঋতুস্রাব সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার

একটি মেয়ে যখন বড় হতে শুরু করে, তখন তাকে সবচেয়ে অপরিচিত যে সমস্যাটির মুখোমুখি হতে হয়, তা হচ্ছে তার মাসিক স্রাব বা ঋতুস্রাব। আমার ছোটবেলার বন্ধু শীলা (ছদ্মনাম) যার মাত্র ১১ বছর বয়সেই ঋতুস্রাব শুরু হয়েছিল। মেয়েটি ওর কাপড়ে রক্ত দেখে আকাশ থেকে পড়েছিল এবং ভয়ে দৌঁড়ে গিয়ে ওর বাবাকে জানিয়েছিল। বাবা তাকে পরামর্শ দিয়েছিল এ ব্যাপারে তার মায়ের সাথে কথা বলতে। পরে ব্যাপারটি বুঝতে পেরে ও দারুণ লজ্জা পেয়েছিল। শীলা ওর এই ‘অসুবিধার বা অসুখের’ বিষয়টি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলেছিল। এই গল্প শুনে তখন আমরাও খুব অবাক হয়েছিলাম। কারণ আমাদের কারো সাথে…

ইসলামের ইতিহাসের পথ ধরে মদিনা

পবিত্র মক্কা থেকে মদিনা - পথের দু’পাশ পবিত্র মক্কা থেকে মদিনা ৪৫০ কিলোমিটার পথ আমরা পাড়ি দিলাম মাত্র ৪.৩০ ঘণ্টায়। এর মাঝে পথে থেমে খেয়েছি। ৬ লেনের এই রাস্তা এতটাই ভাল যে ১২০ মাইল বেগে গাড়ি চলল কিন্তু আমরা টেরও পেলাম না। স্বভাব অনুযায়ী শুধু ভাবছিলাম এই রাস্তা আমার দেশে থাকলে আমি দেশের বাড়ি নীলফামারী যেতাম প্রতি সপ্তাহে। সড়কের দুই পাশে ধূ ধূ মরুভূমি, পাথুরে পাহাড়, মাঝেমাঝে খেজুর গাছ, কিছু উট আর ভেড়া চড়ে বেড়াচ্ছে। অনেক কাজ চলছে সারাটা পথ জুড়েই। গরমও সেইরকম ৩৯ ডিগ্রি। আশেপাশে কোন গাছ না থাকাতে চোখ ঝলসানো রোদ। বারবার মনে…

ইসলামের ইতিহাসের পথ ধরে মক্কা

আমি, আমার মা, ভাই ও ভাইয়ের বউ বেরিয়ে পড়লাম ওমরাহ করার উদ্দেশ্যে। ওমরাহ করার পাশাপাশি আমার ইচ্ছে ছিল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত এই দুটি শহর মক্কা ও মদিনা খুব ভাল করে দেখা। ছোটবেলা থেকে এসব এলাকা সম্পর্কে যা শুনেছি, যা পড়েছি , বারবার তা মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। যারা হজ্জ্ব করতে যান, তারা বিভিন্ন ধরণের রিচ্যুয়াল নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে, তাদের সময়ই হয়না চারপাশটা ভাল করে দেখার। কিন্তু আমরা এই সুযোগটা বের করে নিয়েছি। চেষ্টা করেছি ইসলামের ইতিহাসের পথ ধরে হাঁটার । সেখান থেকেই কিছু অভিজ্ঞতার কথা লিখছি। জেদ্দার উদ্দেশ্যে সওদিয়া…

নারীর পোশাক বিতর্ক: হিজাব পরা এবং না পরা দুই-ই ব্যক্তির অধিকার

ধানমন্ডি লেকের পাশের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। পথের পাশে থাকা চেয়ারে বসে ছিলেন একজন ভদ্রমহিলা। আমি ওনাকে পার হয়ে সামনে যাওয়ার সময় উনি হঠাৎ পাশ থেকে বলে উঠলেন, ‘ওড়নাটা দিয়ে মাথাটা ঢাইকা লন। পারলে হিজাব পরেন। এইভাবে চলাফিরা করেন ক্যান?’ আমি কিছুটা এগিয়ে গিয়ে আবার ফিরে এসে মহিলার সামনে দাঁড়ালাম। খুব সাধারণ ঘরের একজন মানুষ। শাড়ির উপর বাড়তি কাপড়, যাকে বলে হিজাব পেঁচিয়ে মাথা ঢেকে যিনি বসে আছেন, তার বয়স বোধকরি ৬০/৬৫ হবে। উনি আমাকে এই বাড়তি পরামর্শটা দিয়েছেন । আমি ওনাকে খুব শান্তভাবে বললাম, ‘কেন আমি মাথায় কাপড় দিলে বা হিজাব পরলে…

টু-ইন-ওয়ান আর ‘জাকনদানি’ ক্যাসেট

সন্ধ্যায় আব্বা যখন বাড়ি ফিরে আসতো, তখন তার হাতে অবধারিতভাবে কিছু না কিছু, বিশেষ করে খাবার দাবার থাকতোই । আর তাই আমরা বেশ বড় হওয়ার পরেও বাচ্চাদের মত অপেক্ষায় থাকতাম যে আব্বা কখন ফিরবে ? পুরি, সিঙ্গারা, কাটলেট, চকলেট, কেক, চানাচুর, বিস্কুট, মিষ্টি, শন পাপড়ি থেকে শুরু করে ফলমূল, মাছ, মুরগী সবই থাকতো । আমি যেসময়ের গল্প বলছি, সেসময় সাধারণত বাবারাই চাকরি করতো । বাবারাই অফিস থেকে ফিরতো, বাবারাই প্রতিদিন বাজারে যেত। সময়টা ছিল ৭০/৮০ এর দশক। তবে বিপদজনক ব্যাপার ছিল এভাবে বাড়ি ফেরার পথে এটা সেটা কিনতে গিয়ে আব্বা প্রায়ই  'ধরা খেতো' …

ভিসিআর যুগের টপ নায়িকা শ্রীদেবী চলে গেলেন

আশির দশকে আমরা যখন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে, তখন এল রঙিন টেলিভিশন এর যুগ। আমাদের নিউকলোনিতে তখন একটি বাড়িতে রঙিন টিভি কেনা হল। একই সাথে বাজারে এল ভিসিআর নামক যন্ত্রটি। রঙিন টিভি ও ভিসিআর এর সমন্বয় আমাদের তরুণ সময়ে দারুণ সাড়া ফেলে দিয়েছিল । আজকে বলিউডের সুপার নায়িকা শ্রীদেবীর মৃত্যু আমাদের অনেককেই সেই ভিসিআর এর দিনগুলোতে ফিরে গিয়েছি। আমি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছি, ভিসিআর যুগের টপ নায়িকা শ্রীদেবী আজ চলে গেলেন। আমাদের এক বন্ধু লিখেছেন তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, 'মগবাজার মোড় থেকে বাসে চড়ে গুলিস্তান নেমে নবাবপুর দিয়ে পায়ে…

এইসব ছোট ছোট ঘটনা মনে কেবল প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে

মুমু নামে ছোট্ট একটি মেয়ের কান্নার গল্প শুনে হঠাৎ আমাদের ছাত্রজীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা মনে হলো। আমরা যখন আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, আমাদের একজন কাছের বন্ধু নিয়মিত তাদের বাড়ির গাড়িতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতো। তখন খুব অল্প কিছু ছাত্রছাত্রী গাড়িতে করে আসতো। তাতেই আমরা ধরে নিয়েছিলাম ও অবস্থাপন্ন ঘরের মেয়ে। ব্যস! এটুকুই। এর বাইরে ওর পোশাক-পরিচ্ছদ, চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া সব ছিল আমাদের মতোই। আমরা দলবলে যা খেতাম, যেভাবে চলতাম ও তাই করতো। কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি ছিল না । বিকেলে আবার গাড়ি এসে ওকে বাড়ি নিয়ে যেতো।…

প্রশ্নের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান, বয়স ৭৮ বছর। নানারকম শারীরিক সমস্যার সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেদিন হঠাৎ একটু বেশি রকমের অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার পরিবারের লোকেরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ভর্তি হতে বলার পরপরই উনি প্রথমেই ওনার মেয়েকে বললেন, আমার ডিপার্টমেন্টে একটা ফোন করে জানিয়ে দে আমি অসুস্থ। আমি ২-৩ দিন যেতে পারব না। কালকে আমার ক্লাস আছে। ওরা যেন আজই নোটিশ দেয় যে আমি কালকের ক্লাসটা নিতে পারবো না। তা না হলে ছেলেমেয়েগুলো শুধু শুধু কালকে এসে ফিরে যাবে, যা উচিৎ হবে না। অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী আমাদেরও শিক্ষক ছিলেন আজ থেকে ৩৪…

কান্ডারি বল ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা’র 

নাফ নদীতে ভেসে থাকা শিশুর মুখখানি দেখে চোখে পানি আসেনি,  এমন একজন মানুষও কি আছে? না নেই। সবাই আমরা কেঁদেছি, ছোট্ট মানুষটির নিথর দেহখানি দেখে। প্রত্যেকেরই চোখে ভেসে উঠেছে তার প্রিয় শিশুর মুখ, তাদের সন্তানের মুখ। বারবার মনে হয়েছে কার অপরাধে, কোন অপরাধে আমার সন্তানের মরদেহ নাফ নদীতে ভাসছে? কেন শিশুমৃত্যুর মত গুরুভার আমাকে বহন করতে হচ্ছে? কেন অসংখ্য মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হল? কেন অগণিত নিপীড়িত ও ভয়ার্ত মানুষের কান্নায় আজ কাঁদছে বাংলাদেশ। এরা আমাদের আত্মীয় নয়, পরিবার নয় কিন্তু এরা সবাই আমাদের প্রতিবেশি-স্বজন। আর…