চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশের মানুষ

ধর ধর উঠে গেল উঁচুতে, টান ধরে পা, যেন এগোতে পারে না এক পা আর। শক্ত করে ধর, যাওয়াচ্ছি বেটার ওই পাশে। একটা লোক খুব উঁচু প্রাচীর টপকাতে চেষ্টা করছে আর কিছু লোক নিচে হৈ চৈ করছে আর দেয়াল টপকাতে চেষ্টারত মানুষটার পা ধরে নিচে টানছে। দেয়ালের এই পাশে, বেড়াতে আসা নতুন লোক অবাক হয়ে ঘটনাটা দেখছে। কৌতূহল চেপে না রাখতে সে একজন কে ডেকে জিজ্ঞাসা করলো, ভাই কি হইছে, ওই লোক দেয়াল টপকাতে চাইছে কেন আর আপনারাই বা উনার পা ধরে নিচে টানছেন কেন? নতুন লোকটার কথা শুনে তার আপাদমস্তক চোখ বুলিয়ে নিল হৈ চৈ করা দলের একজন। তারপর জানতে চাইলে…

বিতর্কিতদের মনোনয়নে সরিষায় নতুন ভূত ঢোকা নিশ্চিত হলো

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা দীর্ঘ দিন থেকে বলে আসছিল একাদশ সাংসদ নির্বাচনে কোন বিতর্কিত, নিন্দিত ও সমালোচিত ব্যক্তি মনোনয়ন নমিনেশন পাবেন না। শুধুমাত্র পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারাই মনোনয়ন পাবেন। কিন্তু গত ২৫ নভেম্বর, রোববার মনোনয়ন ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে, অনেক বিতর্কিত ব্যক্তি মনোনয়ন লাভ করেছেন। মজার ব্যাপার হল চক্ষুলজ্জার কারণে যেসব বিতর্কিত ব্যক্তিকে সরাসরি আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিতে পারেনি, তাদের না দিলেও তাদের পরিবারের অন্য সদস্যকে মনোনয়ন দিয়ে পারিবারিক করে দিয়েছে। অন্য কোন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কাউকে দেয়নি। এ…

#মি টু ডিপ্রেশন কমাচ্ছে

আমার কাছে মানসিক চিকিৎসা নিতে আসে অধিকাংশ নারী ও শিশু। এদের মধ্যে বেশীর ভাগই যৌন হয়রানীর শিকার। যাদের বয়স ৮ থেকে ৫০’র মধ্যে। কথা বলছিলাম, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ জি এম এস দারের সাথে, তিনি কলকাতা জেএনএম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছে। সাংবাদিক বন্ধু অমিতাভ মুখ্যোপ্যাধায়ের মেসো (খালু), কয়েক বছর আগে কলকাতায় পরিচয়। এদেশে চিকিৎসার কাজে প্রায় আসেন তিনি। সুযোগে #মি টু আন্দোলন ও মানসিক রোগ নিয়ে উনার সাথে হয় অনেক কথা। 'বাজারভিত্তিক প্রতিযোগীতার টানাপোড়নে জীবনের মান কমে যাওয়া, মানসিক রোগের অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করছেন,…

মৃত শিশু: মন্ত্রী মশাই হাসুন প্লিজ

মন্ত্রী মশাই খবরটা দেখেছেন নিশ্চয়। আপনি তো দেখবেনই তাই না? আপনার শ্রমিকদের অবদান। কত সফল আন্দোলন করলো আপনার পরিবহন শ্রমিকরা। তার ফল একটা সাত দিনের শিশুর লাশ। পড়েছেন তো খবরের কাগজে, দেখেছেন তো টিভির পর্দায়। খুব হাসি পেয়েছে নিশ্চয়, দিগ্বিদিক কাঁপিয়ে হেসেছেন তো এই সংবাদে। যদিও জানেন কিভাবে মারা গেল সাত দিনের কন্যাশিশুটি। তারপরও বলি, আপনার শ্রমিকদের পরিবহন ধর্মঘটের কারণে। তারা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রেখেছিল। পথে দফায় দফায় আটকেছে। বাবা-মামার করুণ আর্তি, কান্না তাদের মন গলাতে পারেনি। আপনার যোগ্য সিপাহি তারা, ইমোশনে ধর্মঘটে শিথিলতা…

মেয়ে তোমার নাম দিলাম নির্ভীক

মেয়ে তোমার নাম কী? তুমি কি জয়ী? তুমি কি প্রীতিলতা? তুমি কি সুলতানা রাজিয়া? নাকি তুমি ঝাঁসির রানী লক্ষীবাই? নাকি মাতঙ্গিনী হাজেরা? তুমি যেই হও তুমি আমাদের মেয়েদের সাহস দেখনোর বাতিঘর। তোমার নাম দিলাম নির্ভীক। তোমার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নারীরা নির্ভীকভাবে পথে কাজ করুক, রাতে দিনে, যেকোন সময়ে, তোমার দেখানো পথে হেঁটে যাক আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে। তুমি যেই হও তোমায় সালাম। তুমি আমাদের হয়ে প্রশাসনের একদল রক্ষকরূপী হায়েনার সামনে যা করেছো একা, একদম একা ভোর রাতে, ওদের তুলে ধরেছো সমাজের কাছে, এরা নারীদের একা পেলে কী কথা বলে, কী আচরণ করে তা প্রকাশ…

গাছ!

এক ফেসবুক বন্ধুর ওয়ালে দেখলাম, স্কলাস্টিকা স্কুলের উত্তরা ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তার গাছগুলো কেটে রাস্তার উপর স্তুপ করে রাখা হয়েছে। মেহগনি গাছ। এই গাছ তেমন যত্ন না পেয়েও বেড়ে উঠছিল আপন খেয়ালে। এই গাছ আগামী বিশ বছরেও কোন ক্ষতির কারণ হতো না রাস্তা বা ফুটপাথের। কেন কার খেয়ালে কাটা হল গাছগুলো, কে জবাব দেবে। আসলে জবাবদিহিতার কিছু নেই। এই দেশে ক্ষমতার জোরে যা মন চায় করা যায়। জোর যার মুলুক তার। ২০ বছর পরে গাছগুলো কাটলে  আরো পরিপক্ক হতো। মেহগনি গাছ যতো পুরনো হবে, ততো মূল্যবান হবে। গাছের প্রতি আমার ভালবাসা মায়ের কারণে, সে খুব গাছ…

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে যা চাই

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, গতকাল (শুক্রবার) আপনার জন্মদিন ছিল। আমাদের জন্য বড়ই আনন্দের দিন। আপনার জন্মদিনে সারাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মানুষ যারা আপনাকে ভালবাসে, তারা আপনার জন্মদিনে শুভকামনা জানিয়েছে, দোয়া করেছে। আমরা আপনার কাজের সমালোচনা করি, তারপরও জানি আপনি ছাড়া আমাদের কথা তেমন করে ভাবার মত কেউ আজো আসেনি বঙ্গবন্ধুর পর। আপনি আমাদের মুক্ত আকাশ, আজো উড়তে পারি ডানা মেলে, জানি না আর কতদিন উড়তে পারবো বা মন খুলে বলতে বা লিখতে পারবো। দিনে দিনে আমাদের লেখার, বলার পরিধি ছোট হয়ে আসছে। আপনি ছাড়া আমাদের ভাল করে কি কেউ বোঝে!…

বিদেশে গিয়ে কী শেখেন?

আশরাফ আলী (ছদ্মনাম) বাংলাদেশ সরকারের বড় কর্মকর্তা, এসেছেন ইউনাইটেড নেশন্সে বিশেষ বিভাগের প্রধানের সাথে দেখা করতে, সাথে চেলাচামুণ্ডা আছে তিন বা চার জন। গাড়ি থেকে নেমে কিছুদূর হেঁটে বিল্ডিং-এ ঢুকলেন, সিক্যুরিটি পার হলেন, জ্যাকেট খুলে, ব্যাগ চেক করিয়ে। শুধু তাই না, নিজের পরিচয়পত্র, যা ছবি সংবলিত তা দেখালেন। এর ফাঁকে তিনি সিক্যুরিটি স্ট্যাফদের হাই হ্যালো করলেন, তাদের কর্মদক্ষতার প্রশংসাও করলেন। সব কিছু নিয়মমাফিক শেষ হলে চললেন বিশেষ বিভাগের দিকে। দেশে ফিরলেন, দুইদিন পর যাচ্ছেন রিপোর্ট দিতে, গাড়ী পারলে অফিসের দোরগড়ায়…

শহিদুল আলম ও কিছু প্রশ্ন

সবাই দেখি শহিদুল আলমকে নিয়ে লিখছে, নোবেল বিজয়ী থেকে শুরু করে পাতি ব্লগার, এমন কি যারা শহিদুলের নামও জানতো না (কারণ শহিদুল প্রচার বিমুখ মানুষ) তারাও শহিদুল আলমকে নিয়ে কাটা ছেঁড়া করছে, তাকে জাজ করছে, তাঁর কাজ, অর্জন ও চরিত্র থেকে শুরু করে তাঁর জন্ম পরিচয় নিয়েও ব্যবচ্ছেদ করছে। ৫ আগস্ট থেকে শুনছি অনেক, পড়ছি অনেক। আল জাজিরার ইন্টারভিউয়ের কিছু কথা ভালো লাগেনি যদিও (আমার ব্যক্তিগত মত), ইন্টারভিউটা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল শহিদুল হয়ত বিপদে পড়বেন, ঘণ্টা দশেক পরেই জানলাম শহিদুলকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে জানলাম তাঁর বিরুদ্ধে ৫৭…

আমাদের কথা ভাবে না কেউ

কী আছে আমাদের? আমাদের জন্য কি ভাত-কাপড়ের বন্দোবস্ত আছে? আমাদের শিক্ষা জীবন শেষে জুতার চামড়া না ক্ষয়ে চাকরির ব্যবস্থা আছে? আমাদের নিরাপদ সড়ক আছে? আমদের, নাকি এদেশ আমাদের না? নাকি শুধু কতিপয় দলীয় ক্ষমতাধারীদের? আমরা কিছু বলতে পারি না, আমরা কিছু চাইতে পারি না। দাবি-দাওয়া অধিকার সেতো বইয়ের পাতায় লেখা কল্পকাহিনী যেন। আমরা দেশের হরিজন, অচ্ছুৎ অংশ। আমাদের তাই অবহেলা উপেক্ষায় রাখা। ফিরে চায় না কেউ আমাদের পানে। আমাদের মৌলিক অধিকারে কোন অধিকার নেই। আমাদের জন্য নেই কেউ, নেই কিছু। দেশের হর্তাকর্তা বিধাতা ব্যক্তিদের কাছে আমরা জঙ্গি,…