রাজনীতি

‘গুলি করিনি, কাউকে ভয়ও দেখাইনি’: অস্ত্র হাতে অভিযান নিয়ে ইশরাক

‘গুলি করিনি, কাউকে ভয়ও দেখাইনি’: অস্ত্র হাতে অভিযান নিয়ে ইশরাক

ছবি: সংগৃহীত

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে নামার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ে বারবার অভিযোগ পাওয়ার পরও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি সেখানে গেছেন। নিজের হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ বলেও দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ইশরাক। তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে গাড়ি থেকে নেমে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কয়েকজনকে ধরতে নির্দেশ দিতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওতে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদেরও অস্ত্র হাতে দেখা যায়। একপর্যায়ে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতেও শোনা যায়।

নিজের হাতে অস্ত্র থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মাদক ব্যবসায়ীরা দূর থেকে গুলি করে। এ কারণে আমার হাতে অস্ত্র ছিল।

ইশরাক বলেন, ‘আমি তো আর গুলি করি নাই, ওটা নিয়ে কাউকে ভয়ও দেখাই নাই। হ্যাঁ, অভিযান আমরা করেছি, আমরা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছি।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, তার সংসদীয় আসনের মধ্যে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন ওই এলাকা পড়ে। সেখানে মাদক ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় লোকজন বারবার তার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি পুলিশকেও বিষয়টি জানিয়েছেন, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সেখানে গেছেন।


পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে ইশরাক বলেন, তিনি অন্তত ৩০ থেকে ৪০ বার পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে জনবল ও গাড়ির সংকটের কথা জানিয়েছে। এর আগে ওই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেছেন, ১১ অক্টোবর ৩০০ পুলিশ সদস্য নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। এতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরাও ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয় এবং অভিযান ও ফলাফল সম্পর্কে তাকে জানানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে, প্রতিমন্ত্রীর হাতে থাকা অস্ত্রের বৈধতা এবং এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে অভিযান পরিচালনার আইনগত দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইশরাক দাবি করেছেন, অস্ত্রটি বৈধ। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পর তিনি অস্ত্রটি নেন। ওই সময় মনোনয়নপত্রে তা উল্লেখ করার সুযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। ঢাকা-৬ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হলফনামায় তার আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা উল্লেখ ছিল না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য বহন বা ব্যবহার করা যাবে। তবে অন্যের মধ্যে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেছেন, একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন বেআইনি। তার ভাষ্য, সরকার ও মন্ত্রীদের কাজ নির্দেশনা দেওয়া, আর ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের।

প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত অভিযানের ভিডিওটি পরে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

বিষয়:গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর প্রতিমন্ত্রী ইশরাক মাদকবিরোধী অভিযান

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…