জলবায়ু সংকটে বাড়ছে বাল্যবিবাহ ঝুঁকি, মেয়েদের সুরক্ষায় আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা

ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট বাংলাদেশের মেয়েদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ ঝুঁকি কমাতে মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরার ইসমাইলি জামাতখানা অ্যান্ড সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা। ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন (আইএইচএফ) ও ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে দুটি প্যানেল আলোচনায় বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিবারের আয় কমে যাওয়া, মেয়েদের পড়াশোনায় বাধা এবং অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকি তৈরির বিষয়গুলো উঠে আসে। আলোচকেরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, লিঙ্গবৈষম্য ও মেয়েদের অধিকার পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এসব সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মূল বক্তব্যে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বাল্যবিবাহকে আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিবারের আয় কমে গেলে মেয়েদের শিক্ষা ব্যাহত হয় এবং তাদের ওপর পারিবারিক দায়িত্ব বেড়ে যায়। এতে অনেক পরিবার মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি বলেন, কোনো দুর্যোগ যেন একটি মেয়ের স্বপ্নপূরণ ও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচকেরা বলেন, দুর্যোগের সময় ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানো এবং নিজেদের জীবনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও জলবায়ু মোকাবিলার উদ্যোগে মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশের লিড মুনিরা আহমেদ ফিদাই বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেয়েদের শুধু ভুক্তভোগী হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। এতে আরও নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রথম প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জলবায়ু গবেষক, আইনজীবী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় প্যানেলে আইন, গবেষণা, উন্নয়ন ও যোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞরা মতামত তুলে ধরেন।
আয়োজকেরা জানান, ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও জরুরি সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে কাজ করছে। অন্যদিকে, ইসমাইলি সিভিক সমাজের উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।





