কক্সবাজার

কক্সবাজার গিয়ে কাজে ফিরে যান নূর আলম, অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ জন নিহত

কক্সবাজার গিয়ে কাজে ফিরে যান নূর আলম, অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ জন নিহত

স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে নূর আলমের ছবি

‘স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। তারপরও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে কক্সবাজার বেড়াতে যান। আমি নিজেও সঙ্গে গিয়েছিলাম। কক্সবাজার পৌঁছানোর পর অফিশিয়াল কাজের প্রয়োজন হওয়ায় আমি শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে গণমাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখি নিহত ছয়জনই আমার পরিবারের সদস্য।’

মোবাইলে কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা নূর আলম।

নূর আলমের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়কোঠা ইউনিয়নের গাজিরপাড় গ্রামে। কর্মসূত্রে প্রায় আট বছর ধরে তিনি চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত। পেশাগত কারণে সপরিবার চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি বাসায় ভাড়ায় থাকতেন।

নূর আলম বলেন, শ্যালক ও শ্যালিকাসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তিনি নিজে এবং স্ত্রী ফারিয়া কবির ও ছেলে ফাইজান নূরকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার বেড়াতে যান। তার আগে বুধবার স্ত্রী-সন্তানসহ চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় যান।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নূর আলমের পরিবার ছাড়া অন্যরা রাজধানীর বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় থাকতেন। নিহত বাকি তিনজনের নাম–পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জন নিহত হন। তাদের ছয়জনই একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা ৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। নিহত আরেকজন হলেন নাফিসতা মীম (২৭)।

রিসোর্টে আগুনে মারা গেছেন লায়লা জাহান নাবিলা (ডানে) ও ইসরাত জাহান মালিহা (বাঁয়ে)ছবি : সংগৃহীত

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), ইসমাইল হোসেন মাসুদ (৩০) ও তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা (২৭), মান্নান (৩৪) ও সামিদা (৩২)।

আহত ইসমাইল হোসেন ও তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা সম্পর্কে ফারিয়া কবিরের মামা–মামি। তাদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামে। হতাহতদের স্বজন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আহাদ এ কথা জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের ইনানীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া রির্সোট

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

বেলা সোয়া দুইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আরও মরদেহ থাকতে পারে। উদ্ধার অভিযান চলছে।

হতাহতদের স্বজন আহাদ বলেন, শনিবার সকালে তাদের ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনায় সবাই শোকে বিহ্বল। একসঙ্গে এতগুলো স্বজনের মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।

বিষয়:অগ্নিকাণ্ড নিহত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…