চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
ব্রাউজিং

চেতনায় অম্লান দীপ্তি

চেতনায় অম্লান দীপ্তি

স্মৃতিতে অম্লান শেখ ফজিলাতুন নেছা

ফজিলাতুন নেছা মুজিব বহুগুণে গুণান্বিত একজন পরিপূর্ণ মানুষ ছিলেন। যার উপমা তিনি নিজেই, অনন্য বৈশিষ্ট্যে অতুলনীয়। তুখোড় ছাত্রনেতা, ভাষা সৈনিক ও রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর কট্টর সমালোচক অলি আহাদ ফজিলাতুন নেছা মুজিব সম্পর্কে বলেছেন, “মুজিব সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা আমাদের সম্মানিত ভাবী। তার ত্যাগ-তীতিক্ষা-প্রজ্ঞা আর কষ্ট সহিষ্ণুতা অতুলনীয়। রাজনৈতিক কারণে মুজিব ভাই বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। কারাগারের বাইরের জীবনও ছিল আন্দোলন সংগ্রাম আর সংগঠন দিয়ে ব্যাপৃত। অন্যদিকে ভাবী সংসার চালানো, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে দেশের…

১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট এবং শেখ ফজিলাতুন নেছা

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, সামান্য কয়েকজন সেনাসদস্যদের দ্বারা সংঘটিত কোন আক্রমণ নয়। সুক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার অব্যবহিত সময় থেকেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ক্ষেত্র তৈরি হয়। কারণ, পাকিস্তানি প্রেতাত্মা এবং তাদের দোসররা তখনো ছিল বাংলাদেশে, যারা ঘাপটি মেরে বসেছিল বঙ্গবন্ধু ও তার পরিচালিত সরকারের আশেপাশে। প্রথমাবস্থা থেকে খোন্দকার মোশতাক আহমেদ বিরুদ্ধাচরণ শুরু করেছিল গোপনীয়ভাবে, তাহের উদ্দিন ঠাকুরসহ অনেকেই মোশতাকের ষড়যন্ত্রে রসদের যোগান দিয়েছিল। স্রোতের বিপরীতে চলা খোন্দকার মোশতাকের জন্য…

দেশ পুনর্গঠনসহ সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফজিলাতুন নেছা

স্বাধীনতার পরে শারীরিক অসুস্থতার দরুণ বঙ্গবন্ধুকে অস্ত্রোপাচারের জন্য দেশের বাইরে যেতে হয়েছে কয়েকবার। সেই প্রবাসেও বঙ্গবন্ধুর প্রহরী হিসেবে রেণু পাশে ছিলেন সবসময়। বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে স্বামীকে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছিলেন রেণু। স্বামীর ইচ্ছেকে কখনো অপূর্ণ রাখেননি পতিব্রতা রমণী ফজিলাতুন নেছা। নিজের ইচ্ছেকে কখনো মুখ ফুটে বলতেন না, সব কিছুকে সহ্য করার অসাধারণ দক্ষতা ও ক্ষমতা ছিল ফজিলাতুন নেছা মুজিবের চরিত্রে। এমনকি, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট রাতেও সকলের জন্য খাবার রেঁধেছিলেন রেণু। বঙ্গবন্ধুর সব কাজকেই এবং পছন্দের জিনিসকে সম্মান…

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও ফজিলাতুন নেছা

বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে পরিপূর্ণতা দিতে সারাদেশের মানুষ যাঁর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলেন, বিজয়ের স্বাদ আস্বাদনের জন্য দিনাতিপাত করেছিলেন, তিনি হলেন আমাদের জাতির জনক, স্বাধীনতা সংগ্রামের পথিকৃৎ, বাঙালির রাজাধীরাজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তান থেকে বৃটেন ও ভারত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি স্বাধীন দেশে, স্বভূমে, আপন ভূবনে বীরের বেশে ফিরে আসেন বহু আন্দোলন সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু। ঐ দিন সমগ্র বাঙালি জাতির ন্যায় আনন্দে উদ্বেল হয়েছিলেন ফজিলাতুন নেছা মুজিব। দেশে আসার পরে বঙ্গজননী তাঁর প্রিয়তম স্বামীকে উল্লেখ করে…

শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ও মেজর অশোক কুমার তারা

স্বাধীনতা লাভের দু’দিন পর বঙ্গবন্ধুর পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়। ১৭ ডিসেম্বর মেজর অশোক কুমার তারা ভারতীয় সেনাবাহিনীর উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দায়িত্ব পালনের নিমিত্তে ধানমন্ডির ১৮নং রোডের বাড়িতে ফজিলাতুন নেছা মুজিবের সন্ধান পান। মাত্র ৩ জন সদস্যকে নিয়ে প্রায় ১ ডজন পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করে খুব দ্রুত ফজিলাতুন নেছা মুজিবদের শত্রুমুক্ত করেন মেজর অশোক। মেজর অশোক কুমার তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে রক্ষা করেন, পাকিস্তানি বাহিনী তারাকে হত্যার হুমকি দেয়। হুমকিকে উপেক্ষা করে নিরস্ত্র হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে…

ফজিলাতুন নেছার পরিবারের মুক্তি ও তার ভূমিকা

ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে পাহারারত সৈন্যরা ১৬ই ডিসেম্বরের পরেও তাদের দায় দায়িত্ব পালন করে অর্থাৎ মুজিব পরিবার তখনো মুক্তি পায়নি পাকিস্তানিদের রাহু থেকে। চারদিকে জয় বাংলা ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বাংলার আকাশে বাতাসে, মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার রাস্তায় বিজয় উল্লাসে মত্ত। অথচ, ঘরের ভেতর থেকে মুক্ত আলোর ছোঁয়ায় বের হতে পারছেন না শেখ হাসিনারা। ফজিলাতুন নেছা মুজিব দুশ্চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেন কিন্তু কাউকে বুঝতে দিতেন না। বাড়ির প্রহরীরা সে সময়ে সারেন্ডার না করায় দুশ্চিন্তা আরো গাঢ় হয়। রাগে ফজিলাতুন নেছা প্রহরীদের ডেকে নিয়ে বলেন…

মুক্তিযুদ্ধে শেখ ফজিলাতুন নেছার ভূমিকা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একটি বৃহৎ কর্মযজ্ঞ ছিল, এ কর্মযজ্ঞে লাখ লাখ মানুষের অবদান রয়েছে। তাছাড়া এ দেশ কোনভাবেই স্বাধীন হতো না, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল মহান মুক্তিযুদ্ধ। কিছু সংখ্যক মানুষ নিরবে-নিভৃতে কাজ করেছেন পর্দার আড়াল থেকে আবার অনেকেই রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীদের সাথে সন্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন। কারোরটা প্রকাশিত হয়েছে এবং কারোরটা অপ্রকাশিত অবস্থায় রয়েছে। প্রকৃত অর্থে, আমার মতে, মুক্তিযুদ্ধের সে ভয়াবহ সময়ে যে বা যিনি মুক্তিসংগ্রামের স্বপক্ষে কাজ করেছেন তারা প্রত্যেকেই মুক্তিযোদ্ধা। সে সময়টাতে কতিপয় ব্যক্তিবর্গ…

মুক্তিযুদ্ধের সময় ফজিলাতুন নেছা পরিবারের অবস্থান

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পরে কয়েক দফায় জ্ঞান হারান ফজিলাতুন নেছা মুজিব। সেসময় ধানমন্ডি ৩২ থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় থাকার জন্য কত অনুনয়-বিনয় করেছিলেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পরিবার পাকিস্তানি আর্মি জানলে যে কোন সময় আক্রমণ করতে পারে এই ভয়ে কেউ তাদেরকে থাকতে দিতেন না, বাসা ভাড়া দিতেন না। যে সব জায়গায় এক দুই দিনের জন্য থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল, পরিচয় জানার পর তড়িৎ গতিতে অন্যের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাসা পরিবর্তন করতে হয়েছে। এ সময়ে শেখ কামালসহ অন্যান্য সন্তানদের দুশ্চিন্তায় কয়েকবার জ্ঞান হারান ফজিলাতুন…

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ ও ফজিলাতুন নেছা

২৫ মার্চ সকাল থেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি চলতে থাকে সারা দেশে। কারণ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা সরকার যুদ্ধের সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রেক্ষাপট তৈরি করে ফেলেছিল। বঙ্গমাতা সবকিছু আঁচ করতে পেরেছিলেন তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি যে বাড়ি থেকে তৈরি হয়, সে বাড়ির বড় ছেলে শেখ কামালকে যুদ্ধে পাঠিয়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শুভযাত্রা করেন ফজিলাতুন নেছা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলার আকাশে দুর্যোগের বিভীষিকা ছিল এবং সর্বাধিক দুর্যোগময় রাত্রি দর্শন করেছে বাঙালি জনগোষ্ঠী। ২৫ মার্চের সে বিভীষণ রাত্রিতে ৩২ নম্বরের জনবিরল বাড়ি…

৭১ এর ৭ ও ২৩ মার্চ এবং ফজিলাতুন নেছা

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ মার্চ মাসের শুরুতেই সারা বাংলা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। সবকিছু চলছে আওয়ামী লীগের নির্দেশে মূলত বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলি নির্দেশে। মার্চ মাসের শুরু থেকেই পুরো বাংলার নিয়ন্ত্রণ কার্যত চলে আসে বঙ্গবন্ধুর কাছে। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তৈরি করা হয়েছে। ২ মার্চ ছাত্ররা সেই পতাকা উড়িয়ে দিয়েছে, তুলে দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর হাতে। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে ভাষণ দেবেন। শেখ হাসিনা সেদিনের স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ‘বাসায় গিজগিজ করছে মানুষ। মা সবাইকে ঘর থেকে বাইরে যেতে বললেন। ঘরে তখন বঙ্গবন্ধু, মা আর আমি। মা বললেন, তুমি ১০টা মিনিট…