আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রচারে রেকর্ড ভাঙা অর্থ আসছে কোথা থেকে?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রচারে রেকর্ড ভাঙা অর্থ আসছে কোথা থেকে?

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার ব্যয় এ যাবৎকালের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা ওপেন সিক্রেটসের ধারণা, এবারের নির্বাচনে মোট ব্যয় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থের পরিমাণ এবং তা কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, তা নিয়ে অনুসন্ধান করেছে বিবিসি ভেরিফাই।

নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ আসছে বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে। সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা সুপার প্যাক নামে পরিচিত এসব সংগঠন ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে।

এবারের নির্বাচনে শীর্ষ ব্যক্তিগত দাতা হলেন ধনকুবের ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক। রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে তিনি প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন। বিশেষ করে টেক্সাসে তার অর্থায়ন উল্লেখযোগ্য, কারণ সেখানে তার একাধিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর রয়েছে।

কত খরচ হয়েছে?

ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কমিটিগুলো (প্যাক) প্রার্থীদের সরাসরি কত অর্থ দিতে পারবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে।

তবে সুপার প্যাকগুলো ব্যক্তি, করপোরেশন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও অন্যান্য রাজনৈতিক কমিটির কাছ থেকে সীমাহীন অনুদান নিতে পারে। এসব অর্থ সরাসরি প্রার্থীদের দিতে না পারলেও পরোক্ষভাবে তাঁদের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে ব্যয় করতে পারে।

ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতোমধ্যে ৯৫০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে।

এর মধ্যে ৫৫০ কোটি ডলারের মতো ব্যয় করেছে প্যাক ও সুপার প্যাকগুলো, যা মোট ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি। গত কয়েক মাসে এসব গোষ্ঠীর নির্বাচনী ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও বাইরের গোষ্ঠীগুলোকে এফইসির কাছে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে এসব ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যাবে না।

ছবি: সংগৃহীত

 

 

 

আগের নির্বাচনী চক্রগুলোর ব্যয়ের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে ওপেন সিক্রেটস ধারণা করছে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মোট ব্যয় ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয়ের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।

ছবি: সংগৃহীত

 

কোন দাতারা সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছেন?

উদারপন্থি গবেষণা সংস্থা ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে শীর্ষ ৪০ দাতা ২৪০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই পর্যায়ে অনুদানের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

মার্কিন নির্বাচনী অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ মাইকেল বেকেল বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয়ের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের অর্থের বড় অংশই আসছে সবচেয়ে ধনী দাতা ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে।’

ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থাও প্যাক-এ অনুদান দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শতকোটিপতি অর্থলগ্নিকারী জর্জ সোরোসের প্রতিষ্ঠিত জিওসর কর্প এবং ফান্ড ফর পলিসি রিফর্ম, উভয়ই উদারপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে সম্মিলিতভাবে ১০২ মিলিয়ন (১০ কোটি ২০ লাখ) ডলার অনুদান দিয়েছে।

সোরোস ছাড়াও, নিউ ইয়র্ক সিটির প্রাক্তন মেয়র ও ব্যবসায়ী মাইকেল ব্লুমবার্গই ডেমোক্র্যাটিক দলের সবচেয়ে বড় দাতা, যিনি ৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছেন।

ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে (এফইসি) জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জেফ ইয়াস এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যবসায়িক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক রিচার্ড ও এলিজাবেথ উইলাইনসহ কয়েকজন ধনকুবের রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন খাতে ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।

কিন্তু মাস্কই এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছেন, অক্টোবর মাস পর্যন্ত তিনি প্রায় অর্ধ বিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন।

ছবি: সংগৃহীত

মাস্কের অনুদানের বেশির ভাগই গেছে ২০২৪ সালে তার প্রতিষ্ঠিত সুপার প্যাক ‘আমেরিকা প্যাক’ এবং রিপাবলিকান-সমর্থিত ‘সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে’।

তার দেওয়া অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়েছে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে। এই নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জেমস টালারিকোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

টেক্সাসের নির্বাচনে আমেরিকা পিএসি-র বিনিয়োগের মোট পরিমাণ ৪৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এছাড়াও, সংস্থাটি মিশিগান ও ওহাইওর উভয় সিনেট নির্বাচনে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

ওপেন সিক্রেটস-এর ব্রেন্ডান জে গ্লাভিন বলেন, “এই চক্রে ক্রিপ্টো কোম্পানিগুলোও খুব সক্রিয় ছিল, যেখানে রিপল এবং কয়েনবেস একত্রিত হয়ে ক্রিপ্টো শিল্পের স্বার্থ প্রচারকারী সুপার প্যাকগুলোতে অর্থায়নের জন্য ৬৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।”

ছবি: সংগৃহীত

টাকাটা কীসের জন্য খরচ করা হয়েছে?

প্রচারণা ও রাজনৈতিক দলগুলো নানা উপায়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য অর্থ ব্যয় করে, যার মধ্যে রয়েছে মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য কর্মী নিয়োগ এবং র‍্যালির মতো প্রচারমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন। তারা অভ্যন্তরীণ জরিপ পরিচালনার জন্যও অর্থ ব্যয় করে।

তবে নির্বাচনী তহবিলের বড় অংশই ব্যয় করা হয় বিজ্ঞাপন প্রচারে, যার বেশির ভাগই টেলিভিশনে প্রচারের জন্য।

বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি চক্রে অক্টোবর মাসের শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনে ১১.১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে।

“প্রচলিত সম্প্রচার টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ব্যয়ের শীর্ষ সুবিধাভোগী হিসেবে রয়েছে, যদিও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে,” বলেছেন বেকেল।

মাস্কের ব্যয়ের মতোই, অ্যাডইমপ্যাক্টের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে, এই অর্থের সিংহভাগ ব্যয় হয়েছে মিশিগান, টেক্সাস ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনের বিজ্ঞাপনে, এবং এর পরেই রয়েছে আইওয়া ও মেইন।

বিষয়:প্রচারণা ব্যয় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচন রাজনৈতিক গোষ্ঠী রেকর্ড

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…