শুক্রবার মঞ্চে প্রথমবার ‘শুভঙ্কর হাত ধরতে চেয়েছিল’

নাট্যশিল্পীরা মঞ্চে একসঙ্গে অভিনয় করছেন, আলো ও অন্ধকারের মাঝে, একটি নাট্যপ্রদর্শনী চলাকালে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
দীর্ঘ বিরতির পর নতুন নাটক নিয়ে মঞ্চে ফিরছে তীরন্দাজ রেপার্টরি। শুক্রবার (১ আগস্ট) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে তাদের সপ্তম প্রযোজনা ‘শুভঙ্কর হাত ধরতে চেয়েছিল’-এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন। নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন দীপক সুমন।
‘মুনস্যুন রেভ্যুলেশন’ বা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে নির্মিত এ নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে দর্শকদের জন্য প্রবেশ উন্মুক্ত থাকবে।
নাটকটি মূলত একজন স্বপ্নবিলাসী নাগরিক শুভঙ্করের গল্প, যে বেড়ে ওঠে ভোগবাদী সমাজে বহু না-পাওয়া আর অসফলতার গ্লানি নিয়ে। সমাজে বৈষম্যের বিরুদ্ধে স্বপ্ন দেখা শুভঙ্কর সময়ের ডাকে সাড়া দিয়ে রাজপথে নামে, যুক্ত হয় আন্দোলনে। তবে সেই সংগ্রামে সে হারিয়ে যায়—হয়তো ভীড়ের মধ্যে, কিংবা সময়ের ভেতরেই হারিয়ে ফেলে তাকে সকলে। এই হারিয়ে যাওয়ার মধ্যেই নাটকটি স্মরণ করিয়ে দেয় দায়িত্ববোধ, হারিয়ে যাওয়া মানুষদের স্মরণে থাকার প্রয়োজনীয়তা। সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই নাটকের আরেক চরিত্র ফাইরুয তার উপস্থিতি জানান দেয়।
নির্দেশক বলেন, এই নাটকের বিভিন্ন চরিত্রের মধ্য দিয়ে আমরা শুধু স্মৃতিকে স্মরণ করতে চাইনা, বিজয়কে উদযাপন করতে চাইনা। আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই, সকল হারিয়ে যাওয়া জীবনের প্রতি আমাদের দায় আছে। সেই দায় আমরা পালন করবো।
নাটক প্রসঙ্গে নির্দেশক দীপক সুমন জানান, প্রায় সাত-আট বছর থিয়েটার করতে না পারার কারণে নির্দেশনার অভ্যাস ও প্রক্রিয়ায় এক ধরনের বিপর্যয় এসেছিল। প্রথম দিকে মহড়ায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে সমন্বয় করতে কষ্ট হয়েছে, মাঝেমধ্যে মনে হয়েছে কাজটা ছেড়ে দেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাটকটি মঞ্চস্থ হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম তীরন্দাজ রেপার্টরি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নাট্য নির্মাণে যুক্ত হয়েছে।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মো. আবদুল্লাহ আল নোমান, মানসিফ তাজরিয়ান, মাহিমা সাদিক লিমা, সাদিয়া শাহীন অন্তু, কৌশিক আহমেদ, ফারজানা মেহেজাবীন, নিলয় কুমার বিশ্বাস, বাপ্পী হায়দার, সোনালী কবির, সাজাওয়ার হোসেন অরণ্য, সামিয়া চৌধুরী, আল ওয়ালীদ জিয়ান, সারাহ মীম ও সাগর মৈত্রী।
নেপথ্যে কাজ করেছেন গল্পকার ও নির্দেশক দীপক সুমন, নাট্যরূপকার ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ, শব্দ ও সংগীত পরিকল্পনায় সালিম শাদমান (সাশা) ও জামিল হোসেন সাজু, আলোক পরিকল্পনায় মোখলেসুর রহমান, কোরিওগ্রাফিতে সারাহ মীম, পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা সাকি এবং মঞ্চসজ্জায় সনজিত কুমার দে। পোস্টার ডিজাইন করেছেন রফিক উল্যাহ।






