লিভারপুল সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন প্যারিস পুলিশ প্রধান
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল

প্যারিসে লিভারপুল সমর্থকদের ভিড়, গেটের বাইরে অপেক্ষমাণ ফুটবল প্রেমীরা।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
প্যারিসের পুলিশ প্রধান দিদিয়ের লালেমেন বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে সমস্যা সৃষ্টি করেছিল ৪০ হাজার লিভারপুল সমর্থক। ফরাসি সিনেটে শুনানিতে নিজের বোল পাল্টেছেন তিনি। সংখ্যাটা কম-বেশি হতে পারে দাবি করে অলরেড সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন লালেমেন।
প্যারিসের পুলিশ প্রধান নিজেদের ‘ব্যর্থ’ দাবি করে বলেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেয়া ৩০-৪০ হাজার ভুয়া টিকিটধারীর তথ্যটিতে ভুল হতে পারি। ৪০ হোক, ২০ বা ৩০ হাজার হোক অপারেশনাল দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কিছুই পরিবর্তন করে না।’
সংসদীয় শুনানিতে স্তাদি দে ফ্রান্স স্টেডিয়ামের বাইরে পুলিশি পদক্ষেপের জন্য নিজেকে দোষী করে লালেমেন বলেছেন, ‘এটা পুরোপুরি ব্যর্থতা। এটি ব্যর্থতা কারণ সমর্থকদের বাধা দেওয়া ও আক্রমণ করা হয়েছিল। এটি ব্যর্থতা কারণ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলা শুরু হতে দেরি হওয়ায় লিভারপুল দর্শকদের বিশৃঙ্খলার দায় দেখেছিল ফ্রান্স। দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রী অ্যামিলি উদেয়া কাস্তেরাওর অভিযোগ ছিল, ব্রিটিশ ক্লাবটির সমর্থকদের হাঙ্গামার কারণে খেলা শুরু হতে ৩৫ মিনিট দেরি হয়। অভিযোগে সায় দিয়েছিল উয়েফা এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘যে সকল টিকিটধারীদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিরাপত্তা কর্মীরা দিয়েছিল তাদের অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব সেই (অর্থ) পরিশোধ করতে হবে। সরকারকে কী ঘটেছে তা স্পষ্ট করতে বলেছি। দায়িত্ব পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে। দেশবাসী, ব্রিটিশ এবং স্প্যানিশদের কাছে বিস্তারিতভাবে সব ব্যাখ্যা করতে বলেছি।’
অলরেড সমর্থকদের অভিযোগ, পুরো ঘটনার জন্য দায়ী স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। তারা টিকিট পরীক্ষা করতে খুব বেশি সময় নিচ্ছিলেন। সেসময় পুলিশ পেপার স্প্রে থেকে শুরু করে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ আনছেন লিভারপুল সমর্থকরা।
ইংলিশ ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী বিলি হোগান ফ্রান্স ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিনের দোষ চাপানোর বিষয়টি ভালো ভাবে নেননি। বিশেষ করে ডারমানিনের মন্তব্য ইংলিশ সমর্থকদের জন্য ‘অসম্মানজনক’ জানিয়ে হোগান বলেছেন, ‘একজন ফরাসি মন্ত্রীর শুধুমাত্র লিভারপুল সমর্থকরা সমস্যা সৃষ্টি করেছে বলাটা স্রেফ লজ্জাজনক।’
লিভারপুল-রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের ৩৫ মিনিট পর। প্রথমে দর্শক স্টেডিয়ামে প্রবেশের কারণ দেখিয়ে দেরি করার পর সময় আরও বাড়িয়ে নেয় প্যারিসের মাঠ কর্তৃপক্ষ। পরে টানা হয় নিরাপত্তা ইস্যু। দেরি করে হলেও ম্যাচটি ঠিকঠাকভাবেই শেষ হয়েছিল। লিভারপুলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপের সেরা হয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ।






