ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের

ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে দেশজুড়ে চলমান শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিক্ষোভের ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার ও আটক করার মাত্রা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার ২৮ অক্টোবর এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত চার বিশেষজ্ঞ এ উদ্বেগ জানান। তাদের মধ্যে রয়েছেন শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক জিনা রোমেরো এবং সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ফারিদা শহীদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার ও আটকের ব্যাপকতা বিক্ষোভকারীদের মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা চর্চায় বাধা সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অক্টোবরে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা এবং সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ায় আন্দোলনের পেছনের মূল কারণগুলো আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। শুরুতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়ে তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভেও যোগ দেন তাঁরা। এসব বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয় এবং প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগের সপ্তাহে সরকারি ভবনে ভাঙচুর, শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় ২ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ভবিষ্যতে সহিংসতা ঠেকাতে ‘অত্যন্ত সতর্ক ও কঠোর’ অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।
শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইউনিয়ন এতুদিয়াঁতের মুখপাত্র অ্যালিস কোহেন-মর্জাদেক আল জাজিরাকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও তাঁর নীতির বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এসব বিক্ষোভে। তাঁর অভিযোগ, এসব নীতির কারণে মানুষের অধিকার ও জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র আর্থিক সংকট এবং প্রস্তাবিত বাজেট কাটছাঁটের কারণে শিক্ষার্থীদের দাবির সমাধান করতে হিমশিম খাচ্ছে ফরাসি সরকার। এর ফলে দেশটির শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দও কমেছে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। উত্তর ফ্রান্সের লিল শহরে স্কুলশিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় গ্রেনেড বিস্ফোরণে এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে অপ্রাপ্তবয়স্ক বিক্ষোভকারীদের গুরুতর, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থায়ী ক্ষতি হয় এমন আঘাত পাওয়ার ঘটনা অগ্রহণযোগ্য ও কোনোভাবেই ন্যায্যতা পেতে পারে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা যাতে তাঁদের উদ্বেগ শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারেন এবং সামাজিক সংঘাতের সমাধান সম্ভব হয়, সে জন্য ফরাসি কর্তৃপক্ষের পুলিশি কৌশল ও কার্যপদ্ধতি সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে এর আগেও আহ্বান জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা।






