সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

সড়ক দুর্ঘটনা বা রোড ক্রাশের আচরণগত ঝুঁকি কমাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালক, পথচারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আলোকে করণীয় নির্ধারণে সোমবার (৪ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
ঢাকাসহ সারাদেশে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে সড়ক দুর্ঘটনার একক তথ্যভান্ডার তৈরি এবং আচরণগত ঝুঁকি কমানোর উপায় নির্ধারণে সভাটির আয়োজন করে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপের (জিআরএসপি) আর্থিক সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ব্লমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস) ইনিশিয়েটিভ কো-অর্ডিনেটর মো. ওয়াদুদ, ডিএমপির আট জোনের উপকমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। তিনি সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে পার্থক্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণে মৃত্যুসনদে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উল্লেখ করা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর থেকে তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মানসম্মত হেলমেটের সঠিক ব্যবহার এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পর্যাপ্ত এআই ক্যামেরা স্থাপনের কথাও বলেন আনিছুর রহমান। চালকদের মাদক গ্রহণ শনাক্তে ডোপ টেস্ট, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ডিএমপি সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের জন্য অংশীজনদের সহযোগিতা চান তিনি।
সভায় রোড সেফটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী বোরহান উদ্দিন সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আচরণগত ঝুঁকি এবং তা কমাতে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার বিষয়ে গবেষণার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। সিআইপিআরবির উপনির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন।
অংশগ্রহণকারীরা যানবাহনে সিটবেল্ট ও শিশুদের জন্য নিরাপদ আসন নিশ্চিত করা, চালকদের প্রতিবছর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং চালক ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় ডিএমপির চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্পিড ক্যামেরা স্থাপন, মহাখালীসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে অপ্রয়োজনীয় বাস সরিয়ে নেওয়া এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নয়েজ ব্যারিয়ার স্থাপনের বিষয় উল্লেখ করা হয়।
এ সময় সড়ক নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এবং ডিএমপিকে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, স্পিড রাডার ক্যামেরা সরবরাহ, জনসচেতনতামূলক টিভিসি নির্মাণ এবং মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যের পার্থক্য ও আন্ডার রিপোর্টিং কমাতে পুলিশের তথ্যের সঙ্গে হাসপাতালের তথ্য তুলনা করে গবেষণার প্রস্তাবে সমর্থন জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার। এ গবেষণায় ঢাকার সব হাসপাতালকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
সভাপতি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সবসময় প্রস্তুত। সড়ক নিরাপত্তায় যে কোনো প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা চাইলে ডিএমপির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।






