প্রতিষ্ঠাতাসহ বহু নেতা আটকের পরে ককরোচদের আন্দোলনের নেতৃত্বে যে তরুণ

অভিজিৎ দীপকে ও অজিঙ্ক্য শিন্ডে
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তার অনুপস্থিতিতে দলের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন অজিঙ্ক শিন্ডে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি। শীর্ষ নেতারা মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত শিন্ডে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন বলে আগে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন দিপকে।
দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান অবতরণ করলে সেটির ভেতরে ঢুকে দিপকে, সিজেপির সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। এরপর দলের এক্স হ্যান্ডলে দিপকের ভিডিও বার্তাটি প্রকাশ করা হয়।
ভিডিও বার্তায় দিপকে বলেন, ‘আপনারা যদি এই ভিডিও দেখে থাকেন, তার অর্থ হলো আমি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা গ্রেপ্তার হয়েছি। আমাদের অনুপস্থিতিতে অজিঙ্ক বিক্ষোভ ও সিজেপির আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন। অনুগ্রহ করে তাকে অনুসরণ করুন।’
দায়িত্ব নেওয়ার পর সমর্থকদের দিল্লির যন্তর মন্তরে যাওয়ার আহ্বান জানান অজিঙ্ক শিন্ডে। তিনি বলেন, সরকার ঐক্যকে ভয় পাচ্ছে। পুলিশ যেখানে বাধা দেবে, সেখানেই বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে হবে। যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দেওয়া হলে সেই জায়গাকেই যন্তর মন্তর বানিয়ে ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
কে এই অজিঙ্ক শিন্ডে?
মহারাষ্ট্রের উপকূলীয় শহর আলিবাগের বাসিন্দা অজিঙ্ক শিন্ডে দীর্ঘদিন ধরে অভিজিৎ দিপকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এর আগে তিনি আম আদমি পার্টির (আপ) মহারাষ্ট্র শাখার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৬ সালে গোয়ায় দিপকের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। পরে করপোরেট চাকরি ছেড়ে পূর্ণকালীনভাবে আপের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। গোয়ার বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক বছর কাজ করার পর মহারাষ্ট্রে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হন। গোয়ায় দলটি কোনো আসন না পেলেও তিনি দলের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যান। পরে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
দিল্লিতে ধরপাকড়, আটক শত শত বিক্ষোভকারী
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, কর্মসূচির অনুমতির জন্য যথেষ্ট আগে আবেদন করা হয়নি।
দিপকে, দাস ও রাঙ্কা ছাড়াও শনিবার সকাল থেকে সিজেপির আরও কয়েকজন নেতা ও বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করা বিক্ষোভকারীদের ঘিরে ধরে পুলিশ। পরে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের বাসে তুলে রাজধানীর ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া রাতভর দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪০০ বিক্ষোভকারীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার সকালে গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করে দিল্লি পুলিশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের পরিচিত সমালোচক রাঠি চলতি সপ্তাহের শুরুতে জার্মানি থেকে ভারতে এসেছিলেন। গত ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
সিজেপির শীর্ষ নেতাদের আটকের পর তাদের মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন অজিঙ্ক শিন্ডে।





