ব্যালন ডি’অরের ফল ফাঁস ও বেটিং কেলেঙ্কারি, পুলিশের কাছে গেল আয়োজকরা

ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণীর আগেই আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের তথ্য ফাঁস হয়েছিল। তাতে প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্মে অস্বাভাবিক বাজির দর ওঠে। ঘটনায় প্রায় ২ লাখ ইউরো মুনাফা তোলার প্রমাণও মিলেছে। পুরস্কারের মঞ্চে বর্ষসেরা শীর্ষ পাঁচ খেলোয়াড়ের চূড়ান্ত তালিকা ও ফাঁস হওয়া তালিকা হুবহু মিলে যাওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের হাতে তথ্য তুলে দিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
পুরস্কার ঘোষণার কয়েকঘণ্টা আগে শীর্ষ ফুটবলারদের একটি তালিকা ফাঁসের আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মে ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার হ্যারি কেনের জয় এবং চূড়ান্ত শীর্ষ পাঁচজনের নাম নিয়ে বিপুল অঙ্কের বাজি ধরা শুরু হয়। সাধারণত ব্যালন ডি’অরের ফলাফল কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হলেও অনুষ্ঠানের আগে সঠিক তালিকা ছড়িয়ে পড়া ভাবনার জন্ম দিয়েছে আয়োজকদের মধ্যে।
বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বেটিং মার্কেটে সন্দেহজনক ১২টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার মার্কিন ডলার বাজি ধরা হয়েছিল। তদন্তে দেখা গেছে, এরমধ্যে ৭টি অ্যাকাউন্ট থেকে আগে অন্যকোন বিষয়ে বাজি ধরা হয়নি এবং ৬টি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল বাজি ধরার ঠিক কয়েক মিনিট আগে।
অ্যাকাউন্টগুলোর অনুমান আনুষ্ঠানিক ফলাফলের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। বাজির তালিকা অনুযায়ী হ্যারি কেন প্রথম, কাইলিয়ান এমবাপে দ্বিতীয়, লামিন ইয়ামাল তৃতীয়, রদ্রি চতুর্থ এবং লিওনেল মেসি পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। এমন নিখুঁত হিসাবের মাধ্যমে বাজি ধরা ব্যক্তিরা প্রায় ২ লাখ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো) মুনাফা তুলে নিয়েছেন। একটি অ্যাকাউন্ট প্রথমে কেনের পক্ষে বাজি ধরে, পরে শেয়ার বিক্রি করে শীর্ষ পাঁচের সুনির্দিষ্ট তালিকায় বড় অঙ্কের বাজি ধরেছিল।
বর্ষসেরার গোপন তথ্য কীভাবে বাহিরে এলো, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সাধারণত সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গোপনীয়তা মেনে ফলাফল সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। ভেতরের কোন কর্মীর মাধ্যমে ফলাফল ফাঁস হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখতে ফরাসি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন আয়োজকরা। এখন পর্যন্ত আয়োজকদের অভ্যন্তরীণ কর্মীদের সঙ্গে ওই সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলোর সরাসরি কোন যোগাযোগের প্রমাণ মেলেনি।






