ব্যালন ডি’অর মঞ্চ এড়িয়ে রোনালদোর নতুন বিতর্ক

ব্যালন ডি’অরের মঞ্চ থেকে দূরে থাকলেও ফের আলোচনায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। মূল অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন বয়কট করলেও, ভক্তদের ভোটে ব্যালন ডি’অরের ইতিহাস সেরা স্বীকৃতি ঠিকই উদযাপন করেছেন রোনালদো।। আর এখান থেকেই জন্ম নিয়েছে এক নতুন বিতর্ক। নিজের স্বীকৃতি নিয়ে উল্লাস করলেও, ব্যালন ডি’অর প্রক্রিয়া নিয়ে রোনালদোর দীর্ঘ দূরত্ব ও ক্ষোভ ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ফরাসি ম্যাগাজিন কর্তৃক বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের দেয়া পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে রোনালদো বরাবরই একটু ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার লন্ডনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়, যেখানে বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেন এ পুরস্কার জেতেন। তবে আয়োজনে রোনালদোর অনুপস্থিতি সবার নজর কেড়েছে।
তরুণ প্রতিভাদের উৎসাহিত করার জন্য ২১ বছরের কম বয়সী বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় ‘কোপা ট্রফি’। এবারের আসরে এই পুরস্কার জিতে নেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল। এই বিজয়ী নির্বাচনে ভোটার হিসেবে রোনালদোর অংশ নেয়ার কথা ছিল। তবে তিনি ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকেন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে’কিপ এর তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান এবং মিশেল প্লাতিনিও ভোটদান থেকে দূরে ছিলেন। ২০২১ সালে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিনের তৎকালীন প্রধান সম্পাদক পাসকেল ফেরের সঙ্গে রোনালদোর তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। সেই থেকেই এই পুরস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তার দূরত্বের শুরু হয়।
ওই সময় সম্পাদক দাবি করেছিলেন যে, রোনালদোর জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির চেয়ে বেশি ব্যালন ডি’অর জিতে ক্যারিয়ার শেষ করা। এই মন্তব্যে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে রোনালদো, সামাজিকযোগাযোগমে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এমন কোনো কথা কখনোই হয়নি। তিনি তৎকালীন সম্পাদককে মিথ্যাবাদী বলে অভিহিত করেন এবং তার নাম ব্যবহার করে ফায়দা তোলার অভিযোগ তোলেন।
তবে দীর্ঘদিনের এই বয়কটের ধারা ভেঙে সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক মোড় নিয়েছে বিষয়টি। ফরাসি ম্যাগাজিন ফ্রান্স ফুটবল রোনালদোকে ‘বিওএটি’ ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সেরা বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালীন জেতা তার সেই ব্যালন ডি’অর পুরস্কারটির স্মারকস্বরূপ এই স্বীকৃতি দেয়া হয়।
এই বিশেষ ভোটে তিনি পেছনে ফেলেন তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে। ২০১২ সালে বার্সেলোনায় খেলার সময় পুরস্কার জয়ী মেসি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পর রোনালদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে এই অর্জন উদযাপন করেন। তিনি লেখেন, ‘ফুটবল ভক্তদেরই। বিশ্বজুড়ে থাকা সকল সমর্থককে ধন্যবাদ। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়া এই ব্যালন ডি’অর পুরস্কারটি আপনাদেরও।’
দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ব্যালন ডি’অরের আয়োজনগুলো বয়কট করে আসলেও হঠাৎ করে এই ঐতিহাসিক পুরস্কারটি উদযাপন করায় তার বিরুদ্ধে স্ববিরোধিতার অভিযোগ উঠেছে। ব্যালন ডি’অরের মূল পুরস্কারটি নির্ধারণ করেন মূলত সাংবাদিকরা, যাদের ভোটিং পদ্ধতি ও বিজয়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে রোনালদো অতীতে বহুবার প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ২০১৭ সালে শেষবার ট্রফিটি জেতার পর থেকে তিনি আর এটি জেতেননি। কিন্তু এবারের ‘বিওএটি’ পুরস্কারের ক্ষেত্রে কোনো সাংবাদিক নয়, বরং সরাসরি বিশ্বজুড়ে থাকা সাধারণ ফুটবল ভক্তদের ভোটেই তিনি বিজয়ী হয়েছেন।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে পাঁচটি ট্রফি নিয়ে তিনি এখনও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কারজয়ী খেলোয়াড় হিসেবে অবস্থান করছেন। শীর্ষে আছেন আটবার ট্রফি জেতা আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি।





