চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইলিশ বাড়ুক, জেলে বাঁচুক

মাছঘাটের আলো হঠাৎ নিভে গেল। থেমে গেল সবার ব্যস্ততা। রোজগার যা হয়েছে, তা নিয়েই ঘরমুখো সবাই। মাছধরা ট্রলারে থাকা সৌরবাতির প্যানেল, ব্যাটারি, কাঁথা-বালিশ, জাল, দড়িসহ সবকিছু নিয়ে ছুটছে মানুষগুলো। কারও হাতে রশিতে ঝোলানো দু’এক হালি ইলিশ। দুপুরে ইলিশ ভাজার গন্ধ নাকে এসে ধাক্কা দেয়। টাকা-পয়সার হিসাবের জন্য কেউ কেউ বসে আছেন রাস্তার ধারে। এতসব দৃশ্যপটের মাঝেও মানুষগুলো মলিন মুখ। কারণ,ইলিশ ধরার প্রধান মৌসুম এই চার মাসের শ্রমে যা পাওয়া গেল- তা এক কথায় ‘সমান সমান’ অথবা ‘ক্ষাণিকটা ঘাটতি’। শ্রমজীবী মানুষগুলো কয়েকদিন ভালো খাবে। ধারদেনা শোধ…

মনস্বিতা: গ্রামে নারী শিক্ষা প্রসারের গল্প

ওরা এগিয়ে চলেছে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারলে এখন আর দুশ্চিন্তা নেই। উচ্চ শিক্ষার দুয়ার গ্রামেই। সুযোগ বেড়েছে জীবনে বড় কিছু হওয়ার। উৎসাহ বেড়েছে বাবা-মায়ের। দারিদ্র্যকে এখন আর তারা কোন প্রতিবন্ধক বলে মনে করেন না। তারা মনে করেন, মেয়েটাকে পড়াতে হবে ঠিক ছেলেটার মতো করে। ছায়া সুনিবিড় সবুজে ঘেরা নির্জন গ্রামের মাঝে উচ্ছ্বসিত ছাত্রীদের কোলাহল দেখে যে কেউ থমকে দাঁড়াবেন এখানে। সাইনবোর্ডের দিকে তাকিয়ে নামটা দেখে আরও খানিক অবাক হবেন। কলেজের আবার এমন নাম হয়? ঝালকাঠির উপকূলবর্তী উপজেলা কাঁঠালিয়ার শৌলজালিয়া গ্রামের…

সীমানা বিরোধ, পিছিয়ে উড়িরচর!

সীমানা বিরোধই উড়িচরের উন্নয়ন- অগ্রগতিতে প্রধান বাধা। সতেরো বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন না হওয়ায় সব ক্ষেত্রেই অচলাবস্থা দেখা দিচ্ছে। উন্নয়নের পরিকল্পনা নেই, বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভাবনা বিকাশে যেমন উদ্যোগ নেই, তেমনি সংকট উত্তরণেও নেই কোন পদক্ষেপ। উড়িচরবাসীর দাবি, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের সঙ্গে সীমানা বিরোধ মিটিয়ে এখানে অবিলম্বে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে হবে। তাহলেই এগিয়ে যাবে উড়িরচর।  চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা ভেঙ্গে গড়েছে উড়িরচর। চারিদিকে জলরাশি বেষ্টিত ছোট্ট এ…

উপকূলের ছোট কৃষকের কথা ভাবুন

বড় কৃষক যখন মাছের ঘেরে পানি তোলে, ছোট কৃষকের ফসলের ক্ষেত তখন পানিতে ভাসে। মাছ চাষের প্রয়োজনে বড় কৃষক যখন লবণ পানি তোলে, ছোট কৃষকের তখন প্রয়োজন মিঠা পানি। বড় কৃষক সংখ্যায় কম; তবে দাপট বেশি; এরা ‘নামের কৃষক’। ছোট কৃষক সংখ্যায় বেশি; তবে দাপট কম; কিন্তু এরাই ‘প্রকৃত কৃষক’। বেড়িবাঁধ, স্লুইসগেট, খাল খনন- এসব নামেমাত্র ছোট কৃষকদের জন্য। প্রকৃতপক্ষে এগুলোর সুবিধা ভোগ করেন বড় কৃষকেরাই। ছোট কৃষক চাইলেই স্লুইসগেটের কপাট খুলবে না; চাইতে হবে বড় কৃষককে। কেমন আছেন উপকূলের ছোট কৃষকেরা? এদের কথা একটু ভাবুন! ছোট কৃষক, বড় কৃষক বলে কথা নয়;…

আলো আঁধারের ‘কুহইররা’

চারিদিকে ঘন বনে ঘেরা এক টুকরো জনপদ। বনের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে আঁকাবাঁকা নদীপথ। কোনটি মিলেছে বঙ্গোপসাগরে, আবার কোনটি পাশের বড় নদীগুলোর সঙ্গে। সবুজ বনায়ন গোটা দ্বীপকে প্রকৃতির ঝাপটা থেকে আগলে রেখেছে। যেন নববধূর সাজে এ দ্বীপ ঘুমিয়ে থাকে প্রকৃতির কোলে; নদী পাড়ি দিয়ে তার কাছে না পৌঁছালে সৌন্দর্য্য উপভোগের কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে সমুদ্র মোহনায় প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য নিয়ে জেগে থাকা জনপদ ‘কুহইররা’র প্রাথমিক বর্ণনাটা এমনই। কুহইররা! শব্দটা শুনে প্রথমে কেউ কেউ চমকে গেলেও এখানকার মানুষ চমকাবেন না। কারণ, স্থানীয়…

ঢালচরের ঘরহারা মানুষেরা কোথায় যাবে?

এই তো সেদিন! মাত্র মাস চারেক আগের কথা। টাওয়ার বাজারে ছিল জমজমাট ব্যবসা বাণিজ্য। জেবল হকের বাড়ি থেকে নদীতীর ছিল অনেক দূরে। ঐতিহাসিক মুজিব কিল্লায় ছিল অনেকগুলো বাড়িঘর। আদর্শপাড়ার মতলব মাঝির জামে মসজিদটি ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। এই মসজিদে টিনের চালার উপরে বাঁশের মাথায় বাঁধা মাইকে আজান হতো। কিন্তু সেসব এখন অতীত। টাওয়ার বাজার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জেবল হক কোথায় বসতি গড়বেন জানেন না। মুজিব কিল্লা ফাঁকা। যেখানে ছিল মতলব মাঝির জামে মসজিদ, সেখানে এখন মেঘনার উত্তাল ঢেউ। এভাবেই খুব দ্রুত বদলাচ্ছে ঢালচর। সবার প্রশ্ন- ঢালচরের মানুষ কোথায় যাবে?…

উপকূলের শিশুদের জীবনে আলো ফেরাতে পারেনি সূর্যবাতি

পারভেজ। বয়স ১২। স্কুল নয়, গাঙ তাকে টানে। যে মেঘনা নদী ওদের বাড়ি গিলে খেয়েছে বহুবার; সে নদী ওদের কাছে ‘গাঙ’ নামেই পরিচিত। স্কুলের চৌকাঠ পেরোনোর সুযোগ না হলেও গাঙের ভাঙা পাড়ের সীমারেখা অতিক্রম করেছে বহুবার। নামতা বইয়ের পাতায় গণিতের সংখ্যা সে বোঝে না ঠিকই; তবে নেট পেতে নদীর তল থেকে তুলে আনা চিংড়ি রেণু গণনায় সে বড্ড পাকা। জীবিকার প্রয়োজনে বইখাতার বদলে হাতে কখনো চিংড়ি রেণু ধরার জাল, কখনো বা নৌকার বৈঠা। দ্বীপ জেলা ভোলার ছোট দ্বীপ মদনপুর ওদের বাড়ি। বাবা মনু মিয়া জলমজুর। বহুদিন অন্যের নৌকায় কাজ করেছেন; এবার নিজেই গড়েছেন জাল-নৌকা।…

উপকূলে এখনও আতঙ্ক নিয়ে আসে ২৯ এপ্রিল

‘নোয়াখালী জেলার হাতিয়া দ্বীপের অসহায় মানুষের প্রাণের দাবি- নদীভাঙন রোধ চাই, হাতিয়া উপকূলে ব্লক চাই। ভাঙন রোধে সফল নেতৃত্ব চাই।’ সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এই আহবান জানিয়েছেন দ্বীপ উপজেলার হাতিয়া ডিগ্রী কলেজের একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। তার এই আহবানের পক্ষে অসংখ্য সমর্থন। সকলের কথায়ই হাতিয়াকে নিরাপদ রাখার দাবি। একজন লিখেছেন, ‘হাতিয়ার নদী ভাঙ্গন রোধে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জরুরি। এখানে কাউকে দোষারোপ করে পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমাদের যার যার অবস্থান থেকে এই দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করবার জোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’ আরেকজনের উক্তি,…

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতিতে নজর বাড়ানো দরকার

ঘূর্ণিঝড়ের সিগন্যালের খবর পেয়ে উপকূলের মানুষগুলো কেন আশ্রয়কেন্দ্রে যান না?- জানতে চাইলে উপকূলের প্রান্তিকের মানুষের পাল্টা প্রশ্ন- ‘আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে আমার ঘরের মালামাল কে দেখে রাখবে? পানি বাড়লে গরু-ছাগলের রশি কে কেটে দেবে? কেউবা প্রশ্ন তোলেন- আশ্রয়কেন্দ্রে কেমনে থাকবো? সেখানে থাকার পরিবেশ আছে? টয়লেট আছে? পানি আছে? এই পাল্টা প্রশ্নের জবাব আমাদের কাছে নেই। কারণ, সমগ্র উপকূল ঘুরে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যেসব ত্রুটি রয়েছে; ওদের এই প্রশ্নগুলো সেইসব ত্রুটিকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ঘূর্ণিঝড় সিডর-আইলা থেকে শুরু…

উপকূলের বাস্তুচ্যুত মানুষের ঠাঁই কোথায়?

‘আমার নামটি! না স্যার, আমার নামটি আগে। না, আমার নামটি আগে লেখেন!’ উপকূলের দ্বীপ-চরে তথ্য সংগ্রহে গেলে এ এক স্বাভাবিক চিত্র। অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশুর জটলা। চারিদিকে গোল হয়ে দাঁড়ানো মানুষগুলোর মাঝখানে আমি শুধু নাম তালিকাভুক্তকরণের দায়িত্বে। নোটবুকে পাতার পর পাতা লিখে চলি। তবুও নাম লেখা যেন শেষ হতে চায় না। কেউ কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র এগিয়ে ধরেন চোখের সামনে। হয়তো বাড়িতে পুরুষ লোকটি নেই; তাই ঘরে থাকা নারী এগিয়ে আসেন নাম লেখাতে। নিজের নামটি না বলে স্বামীর নামটিই বলেন। ছেলে বাড়িতে না থাকলেও হাপাতে হাপাতে ছুটে এসে মা তার ছেলের নামটি…