চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

উপকূলের শিশুদের জীবনে আলো ফেরাতে পারেনি সূর্যবাতি

রফিকুল ইসলাম মন্টুরফিকুল ইসলাম মন্টু
১২:২৭ অপরাহ্ণ ০৯, মে ২০১৮
মতামত
A A

পারভেজ। বয়স ১২। স্কুল নয়, গাঙ তাকে টানে। যে মেঘনা নদী ওদের বাড়ি গিলে খেয়েছে বহুবার; সে নদী ওদের কাছে ‘গাঙ’ নামেই পরিচিত। স্কুলের চৌকাঠ পেরোনোর সুযোগ না হলেও গাঙের ভাঙা পাড়ের সীমারেখা অতিক্রম করেছে বহুবার। নামতা বইয়ের পাতায় গণিতের সংখ্যা সে বোঝে না ঠিকই; তবে নেট পেতে নদীর তল থেকে তুলে আনা চিংড়ি রেণু গণনায় সে বড্ড পাকা। জীবিকার প্রয়োজনে বইখাতার বদলে হাতে কখনো চিংড়ি রেণু ধরার জাল, কখনো বা নৌকার বৈঠা।

দ্বীপ জেলা ভোলার ছোট দ্বীপ মদনপুর ওদের বাড়ি। বাবা মনু মিয়া জলমজুর। বহুদিন অন্যের নৌকায় কাজ করেছেন; এবার নিজেই গড়েছেন জাল-নৌকা। স্কুল গমনোপযোগী ছেলে পারভেজকে এখন তার আরও বেশি প্রয়োজন। জাল-নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গেলে নৌকার গলুইয়ে বৈঠা ধরে বসে থাকার দায়িত্বটা পারভেজকেই পালন করতে হবে।

কর্মজীবী বাবা কখনোই ভাবতে পারেননি ছেলেকে স্কুলে পাঠানোর কথা। এভাবেই উপকূলের হাজারও বাবা তাদের শিশুদের কাজে পাঠায়। শিশুকাল থেকেই শুরু হয় কাজের প্রশিক্ষণ। খেলাচ্ছলে নৌকার বৈঠা ধরা; কিংবা বাবার জন্য সকাল-দুপুরে কাপড় পেঁচানো ভাতের থালাটা নিয়ে যাওয়া সেই প্রশিক্ষণেরই অংশ।

মেঘনাপাড়ে দু’দিন দেখা পারভেজের সঙ্গে। শেষ বেলায় দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। সারাটা দিন কিছুই পড়েনি এইটুকু শিশুর পেটে। সেই সকালে মায়ের দেয়া দু’মুঠো পানতা খেয়ে কাজে বেরিয়েছে। সারাদিন কাজ আর কাজ। আর দিন শেষে তার কাছে পৌঁছেছে একপ্লেট ভাত। ভাতের সাথে একদিন ছিল ডিম ভাজা; আরেকদিন ছিল আলু ভাজা। খাড়া থালায় মোটা চালের ভাত চেপে ভাতের ভেতরেই বসিয়ে দেয়া হয়েছে তরকারিটুকু।

বাবার চেক লুঙ্গিতে পেঁচিয়ে ভাতের থালাটি নিয়ে এসেছে তার ছোট ভাই। ‘শেষ বেলায় ভাত খাও কেন?’ প্রশ্ন ছুঁড়তেই পারভেজের ঠোঁটের নিচে কষ্টের হাসি। বললো- ‘মা ভাত পাঠানোর লোক পায়নি তাই।’

ক্লান্ত বিকেলে মদনপুরের প্রধান বাজারে যাচ্ছিল মো. তারেক। মাথায় পলিথিন ব্যাগে ৩-৪ কেজি ধনচে বীজ। তারেকের জামা-লুঙ্গি থাকলেও অনেকদিন থেকে নেই একজোড়া জুতো। ধনচে বীজ বিক্রি করে সে জুতো কিনবে।

Reneta

সায় দিয়েছে তারেকের মা। হন হন করে সে ছুটছে বাজারের দিকে। ওকে থামিয়ে নামধাম জিজ্ঞেস করি। বাড়ি মদনপুরার দক্ষিণপাড়ায়। বাবা কাঞ্চন আলী বদলি মজুর। তারেকের নাম আছে প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস ফোরের খাতায়। কিন্তু সে স্কুলে যেতে পারে না ঠিকমত। কাজের চাপ। তারেকের গা ঘেঁসেই বাড়ির দিকে ছুঁটছিল একই এলাকার আবু কালাম বেপারির ছেলে আল আমীন। হাতে কয়েকটা পেঁপে চারা। বাড়ির ক্ষেত থেকে তোলা কিছু ঢেঁড়স বিক্রি করে চারাগুলো এনেছে সে। তার স্কুলে যাওয়ার নিয়মটাও ঠিক তারেকের মতই।

মদনপুরের সবখানেই কর্মজীবী শিশুদের সঙ্গে দেখা। সকালে, দুপুরে, বিকালে, সব সময় শিশুদের কাজ। ক্ষেত থেকে মরিচ তোলা, ঢেঁড়স তোলা, ক্ষেত নিড়ানি দেওয়া, গরু-মহিষ-ভেড়ার খাবার যোগানো, চিংড়ির রেণু ধরা, ভাটায় শুকনো নদীতীরের গর্ত থেকে চেউয়া মাছ ধরা, বাজার থেকে সদায়পাতি আনা, নদীতে মাছধরা, নৌকা চালানো, জাল বুনন, ক্ষেত থেকে সয়াবিন তোলা, পানি টানাসহ সব কাজে শিশুরা।

দ্বীপ মদনপুর হাইমচর, মনপুরা, ঢালচর, চরমোন্তাজ, গজারিয়া, আবার মূল ভূ-খণ্ডের প্রান্তিক জনপদ কালকিনি, কচ্ছপিয়া, মাইনকা, সুবর্ণচর, আলেকজান্ডার, রামগতিসহ বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের কঠোর পরিশ্রমের চিত্র চোখে পড়ে। মদনপুরের বিধাব নারী আছিয়া বেগমের মাত্র ১১ বছরের শিশু নূর হোসেন সংসারের রোজগারে বড় ভূমিকা রাখে। কাজ করে নৌকায়। মালিক ৬-৭দিন পর পর নূর হোসেনের হাতে ধরিয়ে দেয় ২-৩শ’ টাকা।

যে বয়সে ওদের হাতে থাকার কথা বইখাতা; যে সময়ে সহপাঠীদের সাথে ওদের খেলাধূলায় মেতে ওঠার কথা; সেই বয়সে ওরা কঠিন কাজের চাপে পিষ্ট। শুকনো মলিন মুখ। আমার সাথে আলাপের সময়, ক্যামেরা শার্টারের শব্দ আর ফ্ল্যাশ লাইটের আলোতে ওদের মুখে হাসির যে ঝিলিক দেখি; তা ক্ষণিকের। আলাপে ওরা অনেক গল্প শোনায়; কঠোর পরিশ্রমের বিবরণ তুলে ধরে; মনের কোনে লুকিয়ে থাকা বিবর্ণ স্বপ্নগুলো থেকে খানিক বলে। কিন্তু এর পরের দৃশ্যপট অন্যরকম। আলাপ আর ছবি তোলা শেষে ওরা ছুটে কাজে। সন্ধ্যায় সূর্যবাতির আলোতে দ্বীপের বাজার আলোকিত হয়; কিন্তু কর্মজীবী শিশুদের জীবন ঢেকে থাকে অন্ধকারে।

সন্ধ্যা হতে না হতেই মদনপুর পরিষদ বাজারে নূরে আলমের দোকানে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। কর্মজীবী বড় মানুষগুলোর সঙ্গে আছে ‘ছোট কর্মজীবীরা’। বড়-ছোট সকলেই কাজ করেছেন সারাদিন। সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে আড্ডা-গল্পটাই যেন তাদের কাছে বিনোদন। সাংবাদিক আর তার সাথে থাকা ক্যামেরাটা দেখে শিশু শ্রমজীবীদের ভিড় খানিক বেড়ে গেল। বড়দের চেয়ে যেন শিশুদের সংখ্যাই বেশি। গণনায় শিশুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫। নাম লিখি। শাহীন, রনি, শামীম, সোহেল, ফারুক, মান্নান, রূপা, সুজন, ফয়সল, পারভেজ, নয়ন, সাহাবুদ্দিন, রবু, রিয়াজ, শরীফ। ওদের বয়স ৮ থেকে ১২। স্কুলে যাও? প্রশ্নে উত্তরে নামের পাশে ‘ক্রস’ আর ‘টিক’ চিহ্ন দিতে থাকি। পনেরো নামে ক্রস পড়ে ১২, টিক মাত্র ৩। নিয়মিত না খাওয়া শুকনো মুখ, রোগা শরীর, রোদজলা কালো হাত-পা। এইটুকু বয়সে শিশুরা এতটুকু বিশ্রাম পায়নি। রোজগারের প্রয়োজনে পরিবার ওদের পাঠিয়েছে কাজে; ওদেরকে স্কুলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেনি কেউ।

দ্বীপের ছেলেশিশুদের চেয়ে কন্যাশিশুদের স্কুলে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। কারণ ওদেরকে নৌকায় মাছ ধরতে; কিংবা মাঠের কঠিন কোন কাজে পাঠানো সম্ভব নয়। তাই বলে ওরা বেঁচে যায়নি খাটুনি থেকে। স্কুলের খাতায় তাদের নাম আছে; তারপরও কন্যাশিশুদেরও দেখা যায় অনেক কাজে। সুফিয়া, পলি, মালতি, ঝর্না, রুবিনাদের মধ্যে কাউকে দেখি গরু চড়াতে, কাউকে দূরের কল থেকে পানি আনতে, আবার কাউকে দেখি স্কুল থেকে ফিরে ছোট ভাইকে নিয়ে নদী মাছ ধরতে।

দুপুর গড়িয়ে বিকেলের আলোয় মদনপুরের পুব সীমানায় হাতে পাতিল আর জাল নিয়ে নদীর দিকে ছুঁটতে দেখি রুবিনাকে। আর পিছু যাচ্ছে ছোট ভাইটি। শেষ বেলায় ৯ বছরের শিশু পলিকে দেখি গরুর খাবার যোগাতে ব্যস্ত।

স্কুলে ভর্তির হার বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশুদের অগ্রগতির পরিসংখ্যান রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে। কিন্তু আমার কাছে রয়েছে উপকূল অঞ্চলের উল্টোপিঠের মাঠচিত্র। শতভাগ শিশুর স্কুলে যাওয়ার পরিসংখ্যান উপকূলের ক্ষেত্রে কতটা প্রযোজ্য? এমন প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায় উপকূলের পথে পথে। তবুও প্রশ্নের জবাব মিলে না।

শিশুদের লেখাপড়া, পুষ্টিকর খাবার খেয়ে সমৃদ্ধ মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠার সঙ্গে আর্থ-সামাজিক বিষয়টি নিবিড়ভাবে জড়িত। জলমজুর বাবার কাজে সহায়তা করতে হয় শিশু কিংবা কিশোর ছেলেটিকে। কন্যা শিশুটিকেও ছোটবেলা থেকেই করতে হয় অনেক কাজ। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা, নদীভাঙণসহ নানামুখী প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিয়ত মার খাওয়া মানুষেরা ঘরের সবাই মিলে এক একটি পরিবারকে টেনে নিয়ে যায়। দরিদ্র বাবার একার পক্ষে সংসারের বোঝা টেনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাইতো ছেলেশিশুদের কাজের প্রশিক্ষণ শুরু হয় ছোটবেলা থেকেই।

বিগত কয়েক বছরে উপকূলের দ্বীপ-চরের প্রান্তিক জনপদের বহু স্থানে খড়ের ঘরের স্থলে টিনের ঘর উঠেছে। টিন দিয়ে শক্ত করে ঘর না বাঁধলে সামান্য ঝড়েই উড়ে যায় ঘরবাড়ি। এই ঘরগুলোতে আবার লাগানো হয়েছে সূর্যবাতি। বসতি ঘর, হাটবাজার, কোথাও দ্বীপের অন্ধকার রাস্তা সূর্যবাতির আলোয় আলোকিত। মাছধরার নৌকায়ও আছে এ বাতি। সূর্যবিদ্যুতের শক্তিতে চায়ের দোকানের চৌকাঠ পেরিয়ে বাংলা সিনেমার সংলাপ পৌঁছায় রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথিকের কানে। বাজারগুলো অধিক রাত পর্যন্ত জেগে থাকে এই সূর্যবাতির আলোয়। মানুষের জীবনের আলোচনায় চায়ের টেবিলে ঝড় বয়ে যায়।

যে সূর্যবাতি দ্বীপ-চরের ঘর আলোকিত করলো; বাজার আলোকিত করলো; বাংলাসিনেমা দেখার মত বিনোদন এনে দিল; সে আলোয় আলোকিত হতে পারলো না দ্বীপ-চরের শিশুরা।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।) 

Channel-i-Tv-Live-Motiom

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: উপকূলশিশু
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ছবি: সংগৃহীত

হুন্দাই বাংলাদেশ চালু করল ‘মাইলস অব স্মাইল ক্যাম্পেইন’

এপ্রিল ২০, ২০২৬
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ২য় ওয়ানডে আজ

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ২য় ওয়ানডে আজ

এপ্রিল ২০, ২০২৬
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরেও ভোগান্তি কমেনি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরেও ভোগান্তি কমেনি

এপ্রিল ২০, ২০২৬
বরিশালে সরকারি সেচ প্রকল্পের প্রায় সবগুলো পাম্পই বন্ধ হয়ে গেছে

বরিশালে সরকারি সেচ প্রকল্পের প্রায় সবগুলো পাম্পই বন্ধ হয়ে গেছে

এপ্রিল ২০, ২০২৬

১৫ বছরের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

এপ্রিল ২০, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT