লাইফস্টাইল

চায়ের কাপে শুধু স্বাদ নয়, লুকিয়ে থাকতে পারে স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও!

চায়ের কাপে শুধু স্বাদ নয়, লুকিয়ে থাকতে পারে স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও!

ছবি: সংগৃহীত

সকালের ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে বিকেলের আড্ডা চা ছাড়া অনেকের দিনই যেন অসম্পূর্ণ। কারও পছন্দ দুধ-চা, কেউ আবার লাল চা কিংবা গ্রিন টি পান করতে ভালোবাসেন। তবে চা শুধু স্বাদ বা অভ্যাসের বিষয় নয়, এটি কীভাবে তৈরি করছেন, কতটা চিনি মেশাচ্ছেন এবং কতটা গরম অবস্থায় পান করছেন, সেসব বিষয়ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতার সঙ্গে চা পানের অভ্যাসের একটি সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

চায়ে রয়েছে পলিফেনল নামের উদ্ভিজ্জ উপাদান, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে চায়ের ফ্ল্যাভোনয়েড রক্তনালির কার্যকারিতা ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পানকারীদের মধ্যে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। তবে চা পান করলেই হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব, এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ও জীবনযাপনের সামগ্রিক ধরনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

চা তৈরির পদ্ধতিও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কতটুকু চা-পাতা ব্যবহার করছেন, কতক্ষণ ফুটাচ্ছেন এবং এর সঙ্গে কী পরিমাণ চিনি বা দুধ মেশাচ্ছেন, তার ওপর চায়ের পুষ্টিগুণ ও ক্যালরির পরিমাণ নির্ভর করে। বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি দিয়ে তৈরি দুধ-চা নিয়মিত পান করলে শরীরে বাড়তি ক্যালরি যুক্ত হয়। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই চায়ে চিনির পরিমাণ কমিয়ে আনা ভালো অভ্যাস।

চা পানের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাপমাত্রা। অনেকেই ধোঁয়া ওঠা গরম চা পান করতে পছন্দ করেন। কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি) ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় পান করা পানীয়কে সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। নিয়মিত অত্যন্ত গরম চা পান করলে খাদ্যনালির ভেতরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অর্থাৎ, এখানে উদ্বেগের বিষয় শুধু হৃদ্‌যন্ত্র নয়, খাদ্যনালির স্বাস্থ্যও।

অন্যদিকে, চা পানের পরিমাণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। কিছু গবেষণায় দিনে পরিমিত পরিমাণ চা পানকারীদের মধ্যে হৃদ্‌রোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি কম হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে ব্যক্তিভেদে ক্যাফেইনের প্রভাব আলাদা হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে বেশি চা পান করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা কিংবা বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই নিজের শারীরিক অবস্থা ও সহনশীলতা অনুযায়ী চা পান করা ভালো।

চা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত পানীয় হলেও এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করে পানের অভ্যাসের ওপর। অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা, চা কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর পান করা এবং পরিমিত পরিমাণে চা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা, সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুম হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মনে রাখতে হবে, শুধু চা পান করলেই হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকবে না; সুস্থ থাকতে প্রয়োজন সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।

বিষয়:চায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…