বিমান বিধ্বস্তের আগে বারবার ‘মেডে’ ডাক ২০ বছর বয়সী সহ-পাইলটের

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামা যাওয়ার পথে গত রোববার দক্ষিণ ফ্লোরিডায় একটি ছোট লিয়ারজেট উড়োজাহাজ মাটিতে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এই উড়োজাহাজের কো–পাইলট ছিলেন নাতালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগে নিয়ন্ত্রণকক্ষে বারবার ‘মেডে’ বলে সাহায্য চেয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী সহ-পাইলট নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস। বিমানটিতে বরফ জমা এবং তীব্র ঝাঁকুনির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে যোগাযোগের অডিওতে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল লিয়ারজেট ৬০ মডেলের বিমানটি। উড্ডয়নের পর ফিলগেইরাস জানান, বিমানের বাইরের তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এতে বরফ জমছিল। পাশাপাশি মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনিতে বিমানটি প্রায় ৭০০ ফুট ওঠানামা করছিল।
লাইভএটিসি ডটনেটে প্রকাশিত অডিওতে ফিলগেইরাসকে বলতে শোনা যায়, বিমানটি প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট নিচে নামছে। পরে তিনি চিৎকার করে জানান, অতিরিক্ত গতিতে বিমানটি প্রতি মিনিটে ২০ হাজার ফুট নিচে নামছে এবং মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে। এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে মাত্র এক মিনিটে প্রায় ২৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বিমানটি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পাইলটের লাইসেন্স পান ফিলগেইরাস। তখন তিনি ওয়েস্ট বোকা র্যাটন কমিউনিটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার আগেই বিমান চালানোর অনুমোদন পেয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০২০ সালে তার বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল। স্কুলের বিশেষায়িত অ্যাভিয়েশন একাডেমির অংশ হিসেবে তার লাইসেন্সের খরচ বহন করেছিল পাম বিচ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট। যা নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও তাকে নিয়ে ফিচার করা হয়েছিল।
তার মা কামিলা গাদেলহা কর্তেলেতি জানান, নয় মাস ধরে বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে কাজ করছিলেন মেয়ে। অন্যদিকে সৎবাবা থিয়াগো কর্তেলেতির দাবি, ফিলগেইরাসের ১ হাজার ৩০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। তবে তার লাইসেন্সে বিমানটি চালানোর অনুমোদন থাকলেও ফ্লাইটের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি ছিল না।
দুর্ঘটনায় ফিলগেইরাসসহ বিমানের সাত যাত্রী নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন, তার স্ত্রী হেলেন শার্প, দুই সন্তান এমা ও চার্লি এবং শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আনিতা মারিয়া সেটিনা। নিহত অন্য দুজন হলেন রাচেল রিড ও চারমি ফেয়ার। বিমানের অপর পাইলটের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
রবিনসন ছিলেন ইমেইল মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম রবলির সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং রিটেনশন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা। যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মহলে পরিচিত ছিলেন তিনি।






