রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? ইসলামে যা বলা হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত
রাগ মানুষের স্বাভাবিক আবেগ। তবে রাগের মুহূর্তে বলা একটি কথা, নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত কিংবা করা একটি আচরণ কখনো কখনো সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। ইসলাম রাগকে অস্বীকার করেনি বরং রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা দিয়েছে।
মানুষের জীবনে রাগ আসবেই। কখনো প্রিয়জনের আচরণে, কখনো অন্যায়ের প্রতিবাদে, আবার কখনো প্রত্যাশা পূরণ না হলে মানুষ রেগে যায়। কিন্তু রাগের বশে কাউকে অপমান করা, কটু কথা বলা কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকাই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুত্তাকিদের একটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। তারা রাগ সংবরণ করেন এবং মানুষকে ক্ষমা করেন। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩৪)। অর্থাৎ শুধু ইবাদত নয়, মানুষের সঙ্গে আচরণেও সংযম ও ক্ষমাশীলতা একজন মুমিনের পরিচয়।
এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত বীর সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে হারিয়ে দেয়; বরং প্রকৃত বীর সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১৪)।
এই হাদিসের শিক্ষা হলো, শক্তি কেবল শারীরিক সামর্থ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের আবেগ, কথা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারাও একধরনের শক্তি। কেউ অপমান করলে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা অপমান না করা, উত্তেজনার মুহূর্তে সিদ্ধান্ত না নেওয়া কিংবা ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাওয়া এসব আচরণও আত্মসংযমের পরিচয়।
রাগ নিয়ন্ত্রণে ইসলামের কিছু শিক্ষা
- রাগের মুহূর্তে চুপ থাকার চেষ্টা করা।
- উত্তেজিত অবস্থায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেওয়া।
- অন্যের ভুল ক্ষমা করার মানসিকতা তৈরি করা।
- নিজের আচরণে কাউকে কষ্ট দিলে ক্ষমা চাওয়া।
- প্রতিশোধের পরিবর্তে ধৈর্য ও সংযমের চর্চা করা।
তবে ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করা নয়। অন্যায় বন্ধ করা এবং নিজের অধিকার রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে সীমা অতিক্রম করা ইসলাম সমর্থন করে না।
সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, রাগ হওয়া মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি; কিন্তু সেই রাগের কারণে অন্যের প্রতি অন্যায় করা থেকে নিজেকে বিরত রাখাই প্রকৃত সংযম। মানুষের কাছে বড় হওয়ার চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়ার চেষ্টা করাই একজন মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত।





