২ লাখ ৮৮ হাজার টন রুশ ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে ৭ জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ২ লাখ ৮৮ হাজার টন ডিজেল নিয়ে সাতটি তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে। তবে রুশ জ্বালানি আমদানির বৈধতা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় জাহাজগুলো দেশটির বন্দরে পণ্য খালাস করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস জাহাজগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এ তথ্য পেয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে হওয়া জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির আওতায় এসব ডিজেল পাঠানো হচ্ছে।
গ্রিনপিসের ইউক্রেনবিষয়ক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শন বার্নি বলেছেন, জাহাজগুলোর অবস্থান শনাক্ত হওয়ায় মার্কিন কংগ্রেস ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ চাইলে চালানগুলো বন্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
গত ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রকে ১৮ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের চুক্তির ঘোষণা দেন পুতিন। প্রথম ধাপে ৩ লাখ টন ডিজেল পাঠানোর কথা রয়েছে। এ চালান নির্বিঘ্ন করতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা থেকে ছয় মাসের অব্যাহতি দিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে চুক্তিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আপত্তি উঠেছে। কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা ব্যাংক ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেছেন, রুশ ডিজেল পরিবহনে সহযোগিতা করলে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে।
নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিলও তার অঙ্গরাজ্যের বন্দরে রুশ ডিজেল খালাস ঠেকানোর উপায় খতিয়ে দেখছেন। তিনি চুক্তিটিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ চুক্তির সমালোচনা করে বলেছেন, রাশিয়ার তেল বিক্রির অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে মস্কোকে সহায়তা করবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য আবারও আলোচনায় এসেছে।





