ধর্ম ও জীবন

সময়ের অপচয় কেন ক্ষতিকর? সময় সম্পর্কে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

সময়ের অপচয় কেন ক্ষতিকর? সময় সম্পর্কে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

ছবিঃ সংগৃহীত

অর্থ-সম্পদ হারালে আবার উপার্জন করা সম্ভব, কিন্তু জীবনের যে সময় একবার চলে যায়, তা আর কখনো ফিরে আসে না। অথচ প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও আমরা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় কাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিই। ইসলাম সময়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

মানুষের জীবনে সময় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। পড়াশোনা, কাজ, পরিবার, ইবাদত কিংবা নিজের উন্নতি প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু অলসতা, অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা উদ্দেশ্যহীনভাবে সময় কাটানোর কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

ইসলাম সময়কে শুধু দৈনন্দিন জীবনের একটি বিষয় হিসেবে দেখেনি; বরং মানুষের দায়িত্ব ও জবাবদিহির সঙ্গে যুক্ত করেছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সময়ের শপথ করে বলেছেন, ‘সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা ছাড়া, যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।’ (সুরা আল-আসর, আয়াত ১–৩)।

এই ছোট্ট সুরায় মানুষের জীবনের সাফল্য ও ব্যর্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু সময় পার করাই জীবনের উদ্দেশ্য নয়; বরং সেই সময়কে ঈমান, ভালো কাজ, সত্য ও ধৈর্যের চর্চায় কাজে লাগানো জরুরি।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: সুস্থতা ও অবসর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১২)।

এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝা যায়, সুস্থতা ও অবসর মানুষের জন্য বড় নেয়ামত। কিন্তু অনেকেই এই দুইয়ের যথাযথ মূল্য বুঝতে পারেন না। যখন সময় থাকে, তখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ পিছিয়ে দেন। আবার অসুস্থতা কিংবা ব্যস্ততা দেখা দিলে সেই কাজগুলো করার সুযোগ আর পাওয়া যায় না।

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সময় অপচয়ের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের জন্য ভিডিও দেখতে গিয়ে কখন যে এক-দুই ঘণ্টা পার হয়ে যায়, অনেকেই বুঝতে পারেন না। অথচ এই সময়টুকু পরিবারকে দেওয়া, নতুন কিছু শেখা, কোরআন তিলাওয়াত কিংবা নিজের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করা সম্ভব ছিল।

ইসলামের দৃষ্টিতে সময়ের সঠিক ব্যবহার কীভাবে করবেন?

প্রথমত, প্রতিদিনের কাজের একটি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। নামাজের সময়কে গুরুত্ব দিয়ে দৈনন্দিন কাজ সাজানো যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় ব্যয় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তৃতীয়ত, প্রতিদিন কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার জন্য রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি পরিবারকে সময় দেওয়া, জ্ঞান অর্জন করা এবং মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ করাও সময়ের সুন্দর ব্যবহার।

এখানে মনে রাখা জরুরি, বিশ্রাম নেওয়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানো সময়ের অপচয় নয়। বরং শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য বিশ্রামও প্রয়োজন। মূল বিষয় হলো, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো অবহেলা করে উদ্দেশ্যহীনভাবে সময় কাটানো থেকে বিরত থাকা।

প্রতিটি মানুষের জীবনই সীমিত। আজ যে সময় হাতে রয়েছে, আগামীকাল তা নাও থাকতে পারে। তাই শুধু কতটা সময় বেঁচে আছি, সেটি নয়; বরং সেই সময় কতটা ভালো কাজে ব্যয় করছি, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

বিষয়:ইসলাম কোরআন নামাজ হাদিস

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…