কৃষি

মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনা, পেটেন্ট পেলেন অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান

মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনা, পেটেন্ট পেলেন অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান

ছবি: সংগৃহীত।

মাছের খাদ্যের অপচয় কমিয়ে পানিদূষণ রোধ এবং কম খাবারে বেশি মাছ উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। এ লক্ষ্যে ন্যানো ফিসফিড উদ্ভাবন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও ন্যানোপ্রযুক্তি গবেষক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। 

গত রোববার (১ নভেম্বর) তার উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তির পেটেন্ট অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস।

গবেষকরা বলছেন, প্রচলিত মাছের খাবারের একটি বড় অংশ মাছ গ্রহণ করে না। এসব খাবার পুকুরের তলদেশে জমে পানির গুণগত মান নষ্ট করে। সৃষ্টি হয় বিভিন্ন দূষিত গ্যাস। এতে মাছের রোগাক্রান্ত হওয়া এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ে।

এই সমস্যা সমাধানে ২০১৯ সালে ন্যানো ফিসফিড তৈরি করেন অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান ও তার গবেষক দল। এ প্রযুক্তিতে মাছের খাবারে ব্যবহৃত ভিটামিন ও খনিজ উপাদানগুলোকে ন্যানো আকারে রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে অল্প পরিমাণ খাবারেই মাছের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।

উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান জানান, মাছ চাষে বিপুল পরিমাণ খাবার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু খাবারের অপচয়ের কারণে একদিকে যেমন পানিদূষণ বাড়ে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাছ। পাশাপাশি মাছের খাবারের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের একটি বড় অংশ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। এতে ব্যয় হয় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।

তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই ন্যানো ফিসফিড উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে খাবারের অপচয় কমবে, পানিদূষণ হ্রাস পাবে ও তুলনামূলক কম খাবারে অধিক মাছ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যানো ফিসফিড দেশের মৎস্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই মাছ চাষেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এ উদ্ভাবন।

বিষয়:উদ্ভাবন গবেষক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান ন্যানো ফিসফিড মাছ চাষ যবিপ্রবি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…