ব্রাজিলে এক ম্যাচে ৫৩ লাল কার্ডের বিশ্বরেকর্ড, আগে ছিল আর্জেন্টিনায়

ফুটবল মাঠ পরিণত হয়েছিল রণক্ষেত্রে। মারামারির জেরে খেলোয়াড় ও স্টাফসহ রেকর্ড ৫৩ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। ব্রাজিলের যুব চ্যাম্পিয়নশিপে উবারলান্দিয়া ও মামোরের ম্যাচে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনার দেখা মিলেছে।
মিনাস গেরাইস ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশিত তথ্যে মূল রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোসগিক মোদেস্তো জানিয়েছেন, মোট ৪৩ জন খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফের ৮ সদস্য এবং ক্লাবের দুজন কর্মকর্তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। এরমধ্যে উবারলান্দিয়ার ২৪ জন এবং মামোরের ২৯ জন সদস্য বহিষ্কৃত হয়েছেন। ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০১১ সালে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ম্যাচে দেখানো ৩৬ লাল কার্ডের বিশ্বরেকর্ডটি ভেঙে গেছে।
ম্যাচে মামোরে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ৩-১ গোলে এগিয়ে ছিল। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে মামোরের এক খেলোয়াড় প্রতিপক্ষ ডাগআউটের দিকে অশোভন অঙ্গভঙ্গি ও অশালীন মন্তব্য করেন। রেফারির ভাষ্যমতে ওই খেলোয়াড় বলেছিলেন, ‘এটাই মামোরে, ভাগো তোমরা! দেখে নেব।’
এরপর উবারলান্দিয়ার এক স্টাফ মাঠে ঢুকে ওই খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিলে হাতাহাতি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চরম রূপ নিলে উভয় দলের সদস্য ও কোচিং স্টাফরা একে অপরের দিকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন।
উত্তেজনার সূত্রপাত ছিল দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে। উবারলান্দিয়ার ডিফেন্ডার লুইকে বিসপো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দলটির স্টাফরা রেফারির উপর চড়াও হন। একজন স্টাফ রেফারিকে লক্ষ্য করে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা এখান থেকে বের হতে পারবে না। ভাবছ শহর ছেড়ে পালাবে? তোমাদের আমরা দেখে নেব! তোমরা আমাদের ডোবাতেই এসেছিলে।’
আরেক কর্মকর্তা রেফারিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলতে থাকেন, ‘তোমাকে ঘুষি মেরে শেষ করে দেব, তুমি বের হতে পারবে না। তোমাকে কে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে দেখব। বাহিরে আসো, শুধু তুমি আর আমি, তোমাকে মেরেই ফেলব।’
এই ঘটনার কারণে ম্যাচ প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরে খেলা শুরু হলে আবারও ফাউল নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। মামোরের এক খেলোয়াড় রেফারির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমার সঙ্গে তামাশা করছেন? ও আমাকে ঘুষি মেরেছে! আপনার এটা দেখা উচিত।’
পরে যোগ করা সময়ের মারামারির সময় উবারলান্দিয়ার বল বয়রাও প্রতিপক্ষের দিকে জিনিসপত্র ছুঁড়েতে থাকে। ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পরও হামলা থামেনি এবং মামোরের চিকিৎসকের ব্যাগ-ওয়াটার কুলার ড্রেনে ফেলে দেয়া হয়। মামোরের ড্রেসিংরুম তছনছের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।




