চলে গেলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী বিভা সেনগুপ্ত

মারা গেছেন বর্ষীয়ান রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী বিভা সেনগুপ্ত। বেশ কিছু দিন ধরে ভর্তি ছিলেন কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে। বার্ধক্যজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সঙ্গীতশিল্পী শ্রাবণী সেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৭টা নাগাদ হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। শ্রাবণীর কথায়, “উনি এমনিতে সুস্থ-সবলই ছিলেন। মাঝেমাঝে শুনতাম রক্ত দিতে হয়। সম্ভবত হিমোগ্লোবিন কম ছিল।” জানা গেছে, দুপুর ১২টা নাগাদ শিল্পীর মরদেহ ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন্সের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।
বিভা সেনগুপ্তের মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতদুনিয়া। সঙ্গীতশিল্পী অলক রায়চৌধুরী বললেন, “সেপ্টেম্বর মাসের ২৯ তারিখ বিভাদিকে ‘লোকভারতী’ সংস্থার পক্ষ থেকে ওর বাড়িতে গিয়েই সংবর্ধনা জানাই। সে দিন খুব স্বতঃস্ফূর্ত দেখেছিলাম। কত গল্প হল।”
দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীতসাধনা করলেও বিভার নাম অনেকে জানতে পারলেন তার জীবন সায়াহ্নে। অলক বললেন, “শেষ দশ-বারো বছরে অনেকখানি প্রচার পেলেন বিভাদি। মানুষ তাকে চিনলেন বেশি করে। কিন্তু এসব নিয়ে তার মাথাব্যথা ছিল না। যত্ন নিয়ে শেখাতেন, ছাত্রছাত্রী তৈরি করতেন। অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে গুরু দেবব্রত বিশ্বাসের জন্মদিন পালন করতেন।”
অলকের মতে, কোন প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিলেন না শিল্পী। যে সময়ে তিনি তার ‘বিভা’ ছড়িয়েছেন, তখন পুরোদমে গাইছেন সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীলিমা সেনেরা। তখন বিভা অনেকখানি আড়ালেই থেকে গিয়েছিলেন।
বিভা সেনগুপ্তের বয়স হয়েছিল ৯৪। ১৯৫৯ সালে কলকাতায় আসেন বিভা সেনগুপ্ত। জন্মসূত্রে ছিলেন ত্রিপুরার বাসিন্দা। মায়া সেনের কাছে দীর্ঘদিন গান শিখেছেন। মায়া সেনই তাকে নিয়ে যান দেবব্রত বিশ্বাসের কাছে। সাগর সেন প্রতিষ্ঠিত ‘রবিরশ্মি’-তে নিয়মিত গান শেখাতেন তিনি।






