স্কুলে ভর্তি নীতিতে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ, মামলা শুনবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের চারটি বিশেষায়িত মধ্যবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিতে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে মামলা শুনতে সম্মত হয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একদল অভিভাবকের অভিযোগ, এ নীতির মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো শিক্ষার্থীদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, এশীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ সীমিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠে মন্টগোমারি কাউন্টির চারটি বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে ভর্তির নীতি নিয়ে করা আবেদনটি শুনতে সম্মত হয় সর্বোচ্চ আদালত। অভিভাবকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর এডুকেশন ফেয়ারনেসের করা এ মামলায় বৈষম্যের অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করবেন বিচারকেরা।
এর আগে নিম্ন আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এসব বিদ্যালয়ে এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব আবেদনকারীদের মধ্যে তাদের অনুপাতের তুলনায় কম নয়। ফলে ভর্তির ক্ষেত্রে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে, এমন অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
সুপ্রিম কোর্ট অভিভাবকদের পক্ষে রায় দিলে মামলাটি আবার চালু হতে পারে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। জুনের মধ্যে রায় দিতে পারে আদালত।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে মন্টগোমারি কাউন্টির স্কুল কর্তৃপক্ষ নতুন ভর্তি পদ্ধতি চালু করে। ‘প্যান্ডেমিক প্ল্যান’ নামে পরিচিত এ পদ্ধতিতে প্রথমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এরপর যোগ্য শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিশেষায়িত বিদ্যালয় বা স্থানীয় স্কুলে উন্নত পাঠদানের সুযোগ দেওয়া হয়।
মামলাকারীদের অভিযোগ, এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীরা সাধারণত ভালো ফলাফল করা ও তুলনামূলক কম দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বেশি কেন্দ্রীভূত। ফলে নতুন পদ্ধতিতে তাদের লটারির জন্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ কমে যায়।
এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল একই ধরনের পারিবারিক আয়ের শিক্ষার্থীদের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করেও মূল্যায়ন করা হয়। অভিভাবকদের আইনজীবীদের দাবি, সরাসরি বর্ণের উল্লেখ না থাকলেও এ ধরনের নীতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘প্যান্ডেমিক প্ল্যান’ সম্পূর্ণ বর্ণনিরপেক্ষ একটি লটারি পদ্ধতি। এ নীতির উদ্দেশ্য বা প্রয়োগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের কোনো বিরোধ নেই বলেও আদালতে যুক্তি দিয়েছে তারা।
এখন সুপ্রিম কোর্ট বিবেচনা করবেন, বর্ণনিরপেক্ষ কোনো নীতির কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললে সেই নীতির ফলে কোনো গোষ্ঠী অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক কি না।






