আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারের জান্তা-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর মেয়ের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

মিয়ানমারের জান্তা-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর মেয়ের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আদালতে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মামলা করার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

রোববার (১১ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, থেইন্ট উইন হেটেটকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষভাবে চিহ্নিত ব্যক্তি ও অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের তালিকা (এসডিএন) থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাবা থেইন উইন জাও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে সহায়তার অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, থেইন্ট উইন হেটেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা দেশটির মিয়ানমারবিষয়ক নীতিগত লক্ষ্য অর্জনে আর কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলে মনে করছে বর্তমান প্রশাসন। মিয়ানমারে প্রতারণাকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের পরিবেশ উন্নত করা এবং চলমান সহিংসতা ও মানবিক সংকট নিরসনে শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সরাসরি আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত এলো। ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর জান্তাকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার যে নীতি যুক্তরাষ্ট্র অনুসরণ করছিল, এ পদক্ষেপকে তার পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় শ্বে বাইয়ান ফিউ গ্রুপ অব কোম্পানিজ, এর প্রতিষ্ঠাতা থেইন উইন জাও এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি সামরিক বাহিনীর জন্য জ্বালানি তেল আমদানি ও বিতরণ করত। পরিবারের মালিকানায় সামরিক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানও ছিল।

থেইন্ট উইন হেটেট দাবি করেন, বাবার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা নেই। নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর পড়াশোনা ও আর্থিক লেনদেন ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ছিলেন তিনি। নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁর ক্রেডিট কার্ড বন্ধ এবং বিদেশে ব্যাংক হিসাব ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল বলে আদালতে অভিযোগ করেন তিনি।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর করা একটি মামলা খারিজ হয়ে যায়। পরে একই বছরের জুলাইয়ে তিনি নতুন করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর তাঁর আইনজীবী এরিখ ফেরারি মামলাটি স্বেচ্ছায় প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সমালোচনা করেছে প্রচারাভিযানভিত্তিক সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার। সংগঠনটির অভিযোগ, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যখন বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে, তখন জান্তাকে অর্থায়নে সহায়তাকারীদের পরিবারের সদস্যদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নিন্দনীয়।

বিষয়:অর্থ মন্ত্রণালয় প্রত্যাহার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…