ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের বৈশ্বিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে চাপ বাড়িয়ে দেশটির আয়ের উৎসগুলো সংকুচিত করাই নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে বেসেন্ট বলেন, ইরানের তেল খাতসহ সব ধরনের আয়ের উৎস বন্ধ করা এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা থেকে অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে বিরত রাখাই এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
নতুন কর্মসূচিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। বেসেন্ট এটিকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে লেনদেনকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। তেহরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এগুলো হলো- ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল এবং নৌপরিবহন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানি তেল থেকে অর্থ উপার্জন বা দেশটির আর্থিক লেনদেন সহজতর করার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।
বেসেন্ট আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে ফোনালাপে ইরানি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত বা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। যারা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে থাকবে, তারা মার্কিন অংশীদারত্বের সুবিধা পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলো ওয়াশিংটনের এসব হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তার ভাষ্য, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র নেই।









