আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে আলোচনায় আমিরাতের লানা নুসেইবেহ

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে আলোচনায় আমিরাতের লানা নুসেইবেহ

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে নতুন প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লানা নুসেইবেহ। আনুষ্ঠানিক প্রার্থীদের মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় তার সমর্থকেরা জাতিসংঘের বিভিন্ন সদস্যদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এই তথ্য জানায়।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ দিকে শেষ হবে। তিনি টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার উত্তরসূরিকে এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে হবে, যখন জাতিসংঘ বাজেট সংকট, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব কমে যাওয়া এবং ব্যয় কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে রয়েছে।

মহাসচিব পদের আনুষ্ঠানিক তিন প্রার্থীর কেউই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের (পি৫) সবার সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেননি। এই পাঁচ দেশই ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।

প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান। গত সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক ভোটে তিনি নয়টি সমর্থনসূচক ভোট পেয়েছেন। তবে ভেটো ক্ষমতাধর দুটি দেশ তার বিপক্ষে মত দিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও দুটি বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।

এই অচলাবস্থার কারণে নতুন প্রার্থীদের প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে আমিরাতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নুসেইবেহ তাদের মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে তিনি আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।

জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনের সময় নুসেইবেহ আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতি তুলে ধরেছেন এবং দেশটির অবস্থান সমর্থন করেছেন। তবে তার প্রার্থিতার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক রাজনীতিতে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক বাধা হয়ে দাড়াতে পারে।

বিশেষ করে সুদানের গৃহযুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে আমিরাত সমালোচনার মুখে রয়েছে। ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক নৃশংসতার অভিযোগ আছে। তবে আবুধাবি যুদ্ধে জড়িত কোনো পক্ষকে অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নুসেইবেহের প্রার্থিতায় সৌদি আরবের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আমিরাতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব তার প্রার্থিতায় আপত্তি জানাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে কিছু আঞ্চলিক বিশ্লেষকের ধারণা, ইয়েমেন নিয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার কারণে রিয়াদ সরাসরি বিরোধিতা নাও করতে পারে।

গালফ স্টেট অ্যানালিটিকসের প্রতিষ্ঠাতা জর্জিও কাফিয়েরো বলেছেন, আমিরাতের কোনো নাগরিক জাতিসংঘের মহাসচিব হলে তা সৌদি আরবের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তার মতে, আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের স্বার্থ ও নীতিতে পার্থক্য রয়েছে।

এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ বছর অনানুষ্ঠানিকভাবে লাতিন আমেরিকা থেকে পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের বিষয়ে সমঝোতা ছিল। একই সঙ্গে টানা নয়জন পুরুষ মহাসচিবের পর একজন নারীকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রত্যাশাও ছিল। তবে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, অঞ্চল বা লিঙ্গের চেয়ে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনায় থাকা অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তুরস্কের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার প্রধান ফেরিদুন সিনিরলিওলু। এ ছাড়া লাতিন আমেরিকার আরও অন্তত দুজন কর্মকর্তা নিজেদের প্রার্থিতা নিয়ে সমর্থন যাচাই করছেন বলে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন।

গ্রিনস্প্যানের সমর্থকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত ছয়টি ভোটের মধ্যে পাঁচটিতে তিনি সমর্থন পেয়েছেন এবং জাতিসংঘে সংস্কারের অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তার বিরুদ্ধে থাকা দুটি বিরোধিতা আলোচনার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা প্রার্থীদের কাছ থেকে নিয়োগ ও নীতিগত বিষয়ে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করতে পারেন।

জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো ডেভিড স্টিভেনের মতে, বর্তমান প্রার্থীদের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তবে নতুন প্রার্থী আসার সম্ভাবনা বাড়ছে। তার মতে, নিরাপত্তা পরিষদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, কারণ দেরি হলে নতুন মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতির জন্য সময় কমে যাবে।

বিষয়:আরএসএফ আরব আমিরাত (ইউএই) জাতিসংঘ সৌদি আরব

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…