আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ পেছালেন কেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ পেছালেন কেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

ছবি: সংগৃহীত।

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও ৬০ দিন পর্যন্ত সময় নিতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এসব পদক্ষেপের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেই এ সময় নিতে পারে তার প্রশাসন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ কথা জানান।

এর আগের দিন শুক্রবার রাশিয়ার রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের বিষয়ে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়ে নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। শনিবার তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রুবিও বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা পর্যালোচনা করতে চান ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে গিয়ে এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্কও মাথায় রাখতে হবে।

গত মাসে ট্রাম্পের সই করা গ্রাহাম আইনে রাশিয়ার পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও শুল্ক ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এ উদ্যোগের লক্ষ্য। তবে স্থগিতাদেশের কারণে আগামী সপ্তাহে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা পদক্ষেপগুলো আপাতত পিছিয়ে গেছে।

এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার আশঙ্কা, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানো হলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও উৎসাহিত হতে পারেন এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে থাকা মার্কিন আইনপ্রণেতা লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, পুতিন ও রাশিয়াকে তিনি বিশ্বাস করেন না।

এদিকে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর একটি পৃথক চুক্তিও সমর্থন করেছেন রুবিও। ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় রাশিয়া প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বর ও পরবর্তী সময়েও আরও চালান আসার কথা রয়েছে।

রুবিওর ভাষ্য, ওই ডিজেল বিশ্ববাজারে বিক্রি হবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রুবিও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে সম্মিলিত প্রভাব ফেলছে। ফলে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি চাহিদা সামাল দেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

বিষয়:জেলেনস্কি ট্রাম্প ভারত যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া রুবিও

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…