রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ইইউ’র সমর্থন
ইইউর সহায়তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ইউক্রেনে চলমান হামলার জবাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে নতুন হামলার পর কিয়েভের সমালোচনা করে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ব্রাসেলসে ইইউর সম্মেলনে ইউক্রেনের শীতকালীন প্রস্তুতি, সামরিক সহায়তা ও অর্থায়ন নিয়ে কথা বলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া পরস্পরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে সামরিক,বেসামরিক ও জ্বালানি শোধনাগারে রাশিয়ার হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
কিন্তু রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের নতুন হামলার পর কিয়েভের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, এসব হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তার দলের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য ও অস্ত্র সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছে, ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
এ দিকে যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনায় ব্যবহৃত স্পেসএক্সের স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে ইউক্রেনের। তবে স্টারশিল্ডের গতি ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প দিয়েছেন, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
ইউরোপের কাছে স্টারলিংকের তাৎক্ষণিক বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে ইউরোপ ইউক্রেনকে একই ধরনের সক্ষমতা দিতে পারবে না। এদিকে, রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ তৈরির কাজ চলছে।
ব্রাসেলসে সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুদ্ধ শেষ করার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাই ইউক্রেনকে শীত মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘শীতকালীন সহায়তা প্যাকেজে শুধু জ্বালানি নয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থায়নও প্রয়োজন।’
এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখাল রয়টার্সকে বলেন, আগামী বছরের বাজেট ঘাটতি পূরণে ইউক্রেনকে নতুন ঋণ দিতে হতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। গত শীতের মতো এবারও ইউক্রেনের পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
চলতি বছরের সামরিক ব্যয়ের ২৭ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি পূরণে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে পরিকল্পনা করার কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এর মাধ্যমে ২০২৭ সালের শুরুতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ড্রোন কেনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী সের্গেই মার্চেনকো জানিয়েছেন, আগামী বছরের বাজেটে এখনো ৩২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে। মিত্রদের কাছ থেকে সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম হিসেবে প্রয়োজনীয় আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা এই হিসাবের বাইরে।
নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব ইয়েটেন ইউক্রেনকে নতুন আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশের সংখ্যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, বড় অঙ্কের নতুন আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে ঘাটতির হিসাব যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার।
এদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম মোকাবিলা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল কেনার চুক্তিও ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। ফলে ইউক্রেনকে সহায়তা এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।






