আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনের ড্রোনের গতি সীমিত করা নিয়ে বিতর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত মাস্কের

ওয়াশিংটন-কিয়েভ সম্পর্কে টানাপোড়েন

ইউক্রেনের ড্রোনের গতি সীমিত করা নিয়ে বিতর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত মাস্কের

ছবি: সংগৃহীত।

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংক। স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবস্থায় নতুন গতিসীমা আরোপের মাধ্যমে ইউক্রেনের ড্রোনের গতি সীমিত করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক। এ ছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তির কারণে নিজেকে প্রতারিত মনে করছেন জেলেনস্কি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবস্থায় নতুন গতিসীমা আরোপের পর ইউক্রেনের সামরিক ড্রোনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ঘণ্টায় ১০০ মাইল বা প্রায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলাচলকারী অস্ত্রগুলো স্টারলিংকের সংযোগ হারাতে শুরু করে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যে সংযোগব্যবস্থা আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয় বলে জানান ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। জবাবে মাস্ক বলেন, স্টারশিল্ড মার্কিন সরকারের মালিকানাধীন এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থায় গতি বা ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড এক নয়। স্টারলিংক মূলত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহকারী একটি বেসামরিক পরিষেবা। অন্যদিকে, স্টারশিল্ড তৈরি করা হয়েছে সরকারি ও সামরিক ব্যবহারের জন্য। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী যোগাযোগ রক্ষা এবং ড্রোন পরিচালনার কাজে স্টারলিংক ব্যবহার করে থাকে।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফেদোরভ স্টারশিল্ডের গতিসীমা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তিনি মাস্ককে ধন্যবাদ জানিয়ে তার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

স্টারলিংকে বিধিনিষেধ আরোপের সময় ইউক্রেনে রাশিয়া বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করলেও কিছু ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

হামলায় কিয়েভে কয়েকজন নিহত হন এবং সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত যোগাযোগ ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানান, ড্রোন আঘাত হানার আগে তারা কোনো সতর্কবার্তা পাননি।

জেলেনস্কির উপদেষ্টা সেরহি বেস্ক্রেস্তনভ দাবি করেন, স্টারলিংকের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনা কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়। বরং এর সঙ্গে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের হামলা অব্যাহত থাকায় দেশটির ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেলেনস্কির দাবি, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সীমিত করার হুমকি দিয়েছিল। তবে ট্রাম্প এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, বুধবার রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘আর এভাবেই হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে… জেলেনস্কির বিদায় নেওয়ার সময় হয়েছে।’ এর আগে ট্রাম্পও ইউক্রেনে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন।

২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে সামরিক আইন কার্যকর রয়েছে। এ কারণে দেশটিতে নির্বাচন স্থগিত আছে।

বুধবার লন্ডন সফরে যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। এ সময় তিনি বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তির কারণে তিনি নিজেকে প্রতারিত মনে করেছিলেন। তবে তার ভাষায়, বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে আরও জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে।

জেলেনস্কির সফরের আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, ইউক্রেনে হালকা বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ দ্রুত করা হবে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি, এবং এই সমর্থন বদলাবে না।’

স্টারলিংকের গতিসীমা নিয়ে বিতর্ক এবং ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে চলমান মতপার্থক্য ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে বিধিনিষেধ আরোপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

বিষয়:অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইউক্রেন জেলেনস্কি ট্রাম্প মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…