নির্বাহী ক্ষমতায় দেশ চালানোর প্রস্তুতি ট্রাম্পের
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এলে

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশ পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা তাকে বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। এসব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনাতেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলেও নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে সরকার পরিচালনায় বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন ট্রাম্প।
রোববার (১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নির্বাহী ক্ষমতার পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই তিনি ব্যাপক শুল্ক আরোপ, অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীসংখ্যা কমানো এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধসহ বিভিন্ন পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন।
তবে বড় আকারের কর ও সরকারি ব্যয় কমানোর প্যাকেজটি পাস করতে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এতে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।
নির্দলীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ইনসাইড ইলেকশনের সম্পাদক নাথান গঞ্জালেস বলেন, গত দুই বছরে ট্রাম্প কংগ্রেসকে অনেকটা পাশ কাটিয়ে নির্বাহী আদেশ ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমেও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছেন ট্রাম্প। কংগ্রেস ভোটের মাধ্যমে এসব জরুরি অবস্থা বাতিল করতে পারলেও প্রেসিডেন্ট তাতে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অগ্রাহ্য করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে প্রেসিডেন্টের বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের বিভিন্ন পদে মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ আটকে দিতে পারবেন তারা। টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু ই. বুশের মতে, ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তিদের অনুমোদনে ডেমোক্র্যাটরা অনাগ্রহী হতে পারেন। পাশাপাশি তার সমর্থিত আইন পাসেও বাধা দিতে পারবেন তারা।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কী কী পদক্ষেপ নিতে পারবেন এবং আদালতে সেগুলো কীভাবে রক্ষা করা যাবে, সে বিষয়ে বিচার বিভাগের আইনি মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা করছে হোয়াইট হাউস।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত কার্যক্রম। প্রতিনিধি পরিষদের জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য ও বিভিন্ন কমিটির কর্মকর্তারা শুনানি, সমন জারি এবং নথিপত্র তলবের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্তের পরিকল্পনা করছেন।
তাদের লক্ষ্য, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প নিজের, ঘনিষ্ঠজন কিংবা রাজনৈতিক দাতাদের সুবিধা দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা।
সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য তদন্ত মোকাবিলায় কয়েক মাস ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্পের সহযোগীরা। হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের কংগ্রেসের জিজ্ঞাসাবাদ, নথিপত্রের অনুরোধ এবং সমন মোকাবিলার বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন। লিখিত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যক্তিগত উপদেষ্টাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ গোপন রাখতে বিচার বিভাগের কাছে আইনি মতামত চেয়েছে হোয়াইট হাউস। এর মাধ্যমে কংগ্রেসের তদন্তের সময় ‘এক্সিকিউটিভ প্রিভিলেজ’ প্রয়োগ করে এসব যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ ঠেকানোর চেষ্টা করতে পারেন ট্রাম্প।






