ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের রায়: ২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচন ও বিশ্বরাজনীতির নতুন সমীকরণ

৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মোড়। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এটি শুধু একটি দলের পরাজয় নয়। দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছরের মাথায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, শাসনশৈলী ও পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া।
যে অঙ্গরাজ্যগুলো দশকের পর দশক রিপাবলিকানদের দুর্গ ছিল, সেখানেও ডেমোক্র্যাটরা জিতেছে। ফলে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্য যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি আগামী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতির গতিপথও নতুনভাবে নির্ধারিত হতে পারে।
ফলাফলের চিত্র: সংখ্যায় ও প্রতীকে
সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা কানসাস, আইওয়া, টেক্সাস, ওহাইও, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের আসন ছিনিয়ে নিয়েছে। আলাস্কা ও মিসিসিপির ফল এই লেখা তৈরির সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। মিসিসিপিতে প্রভিশনাল ব্যালট গণনা চলছে এবং আলাস্কায় ব্যবধান খুব কম। তবে দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ এখন নিশ্চিত। প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত আসনসংখ্যা এখনো আসেনি। সিবিএসের অনুমানে ডেমোক্র্যাটরা ২৫১ থেকে ২৬৮টি আসন পেতে পারে।
নির্বাচনের পরের ঘটনাগুলোও তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প ফল মেনে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, আর শেয়ারবাজারে স্বস্তির প্রতিফলন দেখা গেছে। হাউসের স্পিকার মাইক জনসন সংখ্যালঘু নেতা হতে চাইবেন না বলে জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজ স্পিকার নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার। জর্জিয়ায় কিশা ল্যান্স বটমস গভর্নর নির্বাচিত হয়ে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হয়েছেন।
রিপাবলিকানদের পরাজয়: অর্থনীতি, শুল্ক ও আস্থার সংকট
পরাজয়ের প্রথম ও প্রধান কারণ অর্থনীতি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে ৮৪ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার অর্থনীতিকে ভোটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। ৭৩ শতাংশ বলেছেন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ, ৬৮ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা। জুলাইয়ের জরিপে দেখা যায়, প্রায় ছয়জনে একজন মনে করেছিলেন ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি পরিস্থিতিকে খারাপ করেছে। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এই হতাশা বাড়ছিল। স্বাস্থ্যসেবা, বাড়িভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ পরিবারের চাপ কমেনি। অর্থনীতিবিদদের মতে শুল্কনীতি ও যুদ্ধজনিত জ্বালানি-মূল্যবৃদ্ধি দুটোই এই চাপ বাড়িয়েছে। ব্রুকিংসের উইলিয়াম গ্যালস্টন যেমন বলেছেন, শুল্ক তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধ থামানো, দুটোই প্রেসিডেন্টের হাতে।
দ্বিতীয়ত, ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে সরকারি দুর্নীতিও বড় ইস্যু ছিল। এপির জরিপে প্রায় অর্ধেক ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি দুর্নীতিকে ভোটের নির্ণায়ক বলেছেন। সংঘাতমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নির্বাহী ক্ষমতার ব্যাপক প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগও ভোটের হিসাবে ভূমিকা রেখেছে।
তৃতীয়ত, রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রচারণা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর অতিনির্ভরশীল ছিল। কানসাসে রজার মার্শাল ভোটারদের বলেছিলেন, তাঁকে সমর্থন মানে প্রেসিডেন্টের কর্মসূচিকে সমর্থন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ঘোষণা করেছিলেন তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়ছেন না, বরং স্থানীয় সমস্যার জন্য লড়ছেন। ট্রাম্প নিজে নির্বাচনের রাতে লিখেছেন, “আমি ব্যালটে ছিলাম না, থাকলে ভূমিধস জিতাম।” কিন্তু ফল দেখাচ্ছে, তিনি ব্যালটে না থেকেও ভোটারদের মূল্যায়নের কেন্দ্রে ছিলেন।
ইরান যুদ্ধ: গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তবে একমাত্র নয়
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এরপর একাধিক যুদ্ধবিরতি হয়েছে, আলোচনা হয়েছে, আবার ভেঙেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। পিউয়ের এক জরিপে ৭৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক গ্যাসোলিন ও জ্বালানির দাম নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলেছেন। অর্থাৎ যুদ্ধ সরাসরি মার্কিন পরিবারের বাজেটে ঢুকে পড়েছে।

নির্বাচনের পরদিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে বলেছেন, “আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে।” তার মতে ২০২৪ সালে ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দেওয়া অনেকেই এবার ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি চারটি বিষয় উল্লেখ করেছেন: যুদ্ধ শেষ করা, জীবনযাত্রার ব্যয়, “আমেরিকা ফার্স্ট” এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা। ট্রাম্প বলেছেন, কথাটি “অনেকাংশে সত্য”, কারণ যুদ্ধ স্বল্পমেয়াদে গ্যাসোলিনের দাম বাড়িয়েছে। তবে তাঁর অনুশোচনা নেই এবং তিনি বলেছেন, আবারও একই কাজ করতেন।
তবে বিশ্লেষণে সতর্কতা দরকার। এপির ভোটার জরিপে প্রায় ছয়জনে একজন ভোটার বলেছেন, ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বলেছেন, যুদ্ধ তাঁদের ভোটের জন্য নির্ণায়ক। জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্নীতিকে সেভাবে দেখেছেন প্রায় অর্ধেক ভোটার। তবে যে সাত রাজ্যে ডেমোক্র্যাটরা সিনেট আসন জিতেছে, সেখানে যুদ্ধের গুরুত্ব বেশি ছিল। ফক্স নিউজের জরিপে টেক্সাসে ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা যুদ্ধকে ভোটের গুরুত্বপূর্ণ বা প্রধান কারণ বলেছেন। সুতরাং যুদ্ধ ছিল অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত একটি শক্তিশালী উপাদান, আর যুদ্ধ ও অর্থনীতি আলাদা করে দেখা কঠিন।
ডেমোক্র্যাটদের জোট: টেক্সাস ও কানসাসের বার্তা
ডেমোক্র্যাটরা ভোটারদের অসন্তোষকে ধারাবাহিক বার্তায় রূপ দিতে পেরেছে: জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও যুদ্ধের অবসান। শহুরে মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী পরিবার, স্বতন্ত্র ও ট্রাম্পের প্রতি মোহভঙ্গ হওয়া ভোটাররা এই জোটে ছিলেন। তরুণ ও হিস্পানিক ভোটারদের ভূমিকার বিস্তারিত পরিসংখ্যান এখনো বিশ্লেষণাধীন, তাই সেগুলো নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত টানা ঠিক হবে না।
টেক্সাস এর সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ। ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে ১৯৮৮ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট হিসেবে টেক্সাস থেকে সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। প্যাক্সটন প্রাইমারিতে সিনেটর জন কর্নিনকে হারিয়ে মনোনয়ন পেয়েছিলেন, আর তার বিতর্কিত ভাবমূর্তি তালারিকোকে রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটারদের কাছেও আকর্ষণীয় করেছে। গভর্নর পদে জিনা হিনোজোসা রেকর্ড চতুর্থ মেয়াদ প্রত্যাশী গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়েছেন। তিনি অ্যান রিচার্ডসের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট গভর্নর এবং টেক্সাসের প্রথম ল্যাটিনা গভর্নর।
কানসাসে ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিলটন ১৯৩২ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট হিসেবে সিনেট আসন জিতেছেন। তিনি দেশের বৃহত্তম মেথডিস্ট চার্চের যাজক, নিজেকে “স্বাধীনচেতা ডেমোক্র্যাট” বলে পরিচয় দিয়েছেন, আর জীবনযাত্রার ব্যয় ও কানসাস-ফার্স্ট বার্তায় জোর দিয়েছেন। ট্রাম্প এই রাজ্যে প্রতিটি নির্বাচনে দুই অঙ্কের ব্যবধানে জিতেছিলেন। এর পাশাপাশি সাউথ ক্যারোলাইনা ও আইওয়াতেও ডেমোক্র্যাটরা আসন পেয়েছে। বার্তা পরিষ্কার: “নিরাপদ” আসন বলে কিছু নেই।
২০২৮-এর প্রস্তুতি: ভ্যান্স ও রিপাবলিকান দলের সামনে প্রশ্ন
মধ্যবর্তী নির্বাচন সরাসরি পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঠিক করে না। তবে ভোটারদের মেজাজ ও দলীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত দেয়। রিপাবলিকানদের সামনে এখন দুটি প্রশ্ন: দলটি কি ট্রাম্প-কেন্দ্রিক বলয়ের বাইরে গিয়ে নতুন নীতিগত অবস্থান তৈরি করবে, নাকি ট্রাম্পের উত্তরাধিকারেই থাকবে?
জেডি ভ্যান্স এই প্রশ্নের কেন্দ্রে। তিনি ২০২৮ সালে প্রার্থী হবেন কি না তা নির্বাচনের পর ঠিক করবেন বলেছিলেন। ইরাক যুদ্ধের সাবেক মেরিন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের দীর্ঘদিনের সমালোচক হিসেবে তিনি এখন ইরান যুদ্ধ থেকে নিজেকে কিছুটা আলাদা করছেন। ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ কেউ কেউ একে আনুগত্যের অভাব বলেছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা বলছে, ভ্যান্সকে এই যুদ্ধের দায় বহন করতেই হবে।
ডেমোক্র্যাটদের চ্যালেঞ্জও কম নয়। ট্রাম্পবিরোধিতায় জেতা এক কথা, শাসন করে প্রত্যাশা পূরণ করা অন্য কথা। মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানে দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখাতে পারলে এই সমর্থন ধরে রাখা কঠিন হবে। প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাও দলের ভেতরে তীব্র হতে পারে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ: সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা
ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষ নিয়ন্ত্রণ করলে বাজেট, নিয়োগ অনুমোদন ও তদন্তে তাদের ক্ষমতা বাড়বে। প্রশাসনের ব্যয়, যুদ্ধ পরিচালনা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে শুনানি ও তদন্তের সম্ভাবনা বেড়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কিন্তু সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট। প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা আছে, আর ডেমোক্র্যাটরা কোনো কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। ফলে যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুদ্ধ-ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস হলেও ভেটো অতিক্রম করা কঠিন। নির্বাহী আদেশ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অনেক কিছুই কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই চলে। তাই সামনে আছে দর-কষাকষি, অচলাবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংঘাতের দুই বছর। এই পরীক্ষায় দুই পক্ষের আচরণই নির্ধারণ করবে, মার্কিন গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে নাকি প্রতিশোধের রাজনীতি গভীর হবে।
বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্য: ইরান যুদ্ধ এখনো অমীমাংসিত। কাতার মধ্যস্থতা করছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি আলোচনার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আবার ট্রাম্প নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, প্রয়োজনে ইরানকে আবার “আঘাত” করতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন ভোটাররা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। কংগ্রেসের নজরদারি যুদ্ধের ব্যয়, আইনি ভিত্তি ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর চাপ বাড়াবে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন অবস্থান রাতারাতি বদলাবে না।
চীন: চীনকে মোকাবিলায় দুই দলের মধ্যে মৌলিক ঐকমত্য আছে। তবে শুল্ক ও প্রযুক্তি-নিষেধাজ্ঞার কৌশল নিয়ে বিতর্ক বাড়বে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে চীন কূটনৈতিকভাবে সক্রিয়, যা বেইজিংয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে দেখা গেছে।
ইউরোপ ও ন্যাটো: ইউক্রেন সহায়তা ও ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ইউরোপীয় মিত্ররা সম্ভবত ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য সতর্কভাবে লক্ষ করবে।
বৈশ্বিক বাণিজ্য: ডেমোক্র্যাটরা শুল্কনীতি নিয়ে আরও সমালোচনামুখর হবে। তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার কারণে বড় পরিবর্তন সহজ নয়। নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য অন্তত শুল্ক আরও বাড়ানোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল করবে।
বাংলাদেশের জন্য বার্তা
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বৃহত্তম একক বাজারগুলোর একটি এবং দেশটির রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সেখানে যায়। ফেব্রুয়ারিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির পর বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ১৯ শতাংশে নেমেছে এবং মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাক শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষতির কারণ ছিল কোনো একক শুল্কহারের চেয়ে বারবার বদলে যাওয়া অনিশ্চয়তা। অর্থনীতিবিদ আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নে, নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য নতুন করে শুল্ক বাড়ানো কঠিন করবে।
ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহ্যগতভাবে শ্রম অধিকার ও মানবাধিকারে বেশি জোর দেয়। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশের বাণিজ্য-সুবিধা স্থগিত করেছিল। তাই কংগ্রেসের নতুন ভারসাম্য শ্রমমান, কারখানার নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিয়ে চাপ বাড়াতে পারে। রোহিঙ্গা সংকটেও কংগ্রেসের মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে বাংলাদেশের জন্য মূল শিক্ষা হলো ওয়াশিংটনের দলীয় পরিবর্তনের ওপর অতিনির্ভর না হওয়া। রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য, শ্রমমান উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ভারত ও জাপানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কই দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা।
শেষ কথা: ক্ষমতার চেয়ে জবাবদিহিতা বড়
২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনের বড় শিক্ষা হলো, ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা স্থায়ী সম্পদ নয়। শক্তিশালী ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এলেও জীবনযাত্রার ব্যয়, যুদ্ধের মূল্য ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার প্রশ্নে ব্যর্থ হলে সমর্থন দ্রুত সরে যায়। রিপাবলিকানদের জন্য এটি নেতৃত্ব ও নীতি পুনর্বিবেচনার সময়। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটি বিজয়ের আনন্দের চেয়ে প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব।
২০২৮ সালে এই বার্তা কতটা প্রতিফলিত হবে, তা এখনই বলা যায় না। ইরান যুদ্ধের পরিণতি, অর্থনীতির গতি, ট্রাম্পের প্রভাব এবং দুই দলের নতুন নেতৃত্বই তা ঠিক করবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: ভোটাররা দেখিয়েছেন, শক্তি প্রদর্শন বা মেরুকরণ দিয়ে দীর্ঘদিন আস্থা ধরে রাখা যায় না, যদি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রশ্নের মুখে পড়ে। এই বার্তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্যই প্রাসঙ্গিক।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই–এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)






