‘বন্ধু’ ইসরায়েলের জন্য ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির মাশুল, নির্বাচনে বড় ধাক্কা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। টেক্সাসের মতো দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান দুর্গে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় সিনেট আসন পুনরুদ্ধার দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি সরকারের কার্যক্রম নিয়েও ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেছে। প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে দলটি।
নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ফল এসেছে টেক্সাসে। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট জেমস ট্যালারিকো। ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম টেক্সাসে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অঙ্গরাজ্যজুড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয় পেলেন। এই ফল রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে আনেন। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফও নিজের আসন ধরে রেখেছেন। এ ছাড়া ওহাইও ও সাউথ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের জয় এসেছে।
নির্বাচনের আগে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন ছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হতো। নির্বাচনের ফলাফলে দলটি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে বলে এপি জানিয়েছে।
ভোটারদের অসন্তোষের পেছনে অর্থনৈতিক চাপ বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এপির ভোটার জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ ভোটার অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয় বলে মনে করেন। মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে সমস্যা হচ্ছে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামও ভোটারদের উদ্বেগের বিষয় ছিল।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধও নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্প দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাত নিয়ে তার প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে। যুদ্ধের ব্যয় এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরের রাজনৈতিক হিসাবও বদলে দিতে পারে। আইন প্রণয়ন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। পাশাপাশি কংগ্রেসে তদন্ত ও প্রশাসনিক জবাবদিহির উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগও পাবে বিরোধী দল।
এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভোট গণনা চলছিল। তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।





