ফুটবল

ম্যাচে মুসলিম বিদ্বেষী স্লোগান, স্পেনকে কী কী শাস্তি দিলো ফিফা

ম্যাচে মুসলিম বিদ্বেষী স্লোগান, স্পেনকে কী কী শাস্তি দিলো ফিফা

দর্শকদের ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের জেরে শাস্তি হল স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের। গত মার্চে মিশরের বিপক্ষে দেশটির প্রীতি ম্যাচে দর্শকদের বর্ণবাদী স্লোগানের ঘটনায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের একটি নিষেধাজ্ঞা শাস্তি দিলো ফিফা, সঙ্গে জরিমানাও। ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ম্যাচটি আয়োজন করা হয়েছিল।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পেনকে নির্দেশ দিয়েছে, পরের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ এমন একটি স্টেডিয়ামে খেলতে হবে, যার একটি অংশ দর্শকদের জন্য বন্ধ থাকবে। শাস্তির অংশ হিসেবে ২০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে মিশরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে প্রথমার্ধের দশম মিনিটের দিকে স্পেনের একদল সমর্থক ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দিতে শুরু করে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও তারা একই স্লোগান দেয়। এসময় মাঠে পর্দায় দর্শকদের সতর্ক করে বার্তা দেখানো হয়, যেখানে বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কর্মকর্তারা আবারও একই বার্তা প্রচার করলে উপস্থিত দর্শকদের একাংশ উপহাস করে।

পরে স্লোগানগুলোকে ইসলামবিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে ফিফা। ঘটনার পর দেশটির ফেডারেশন বিদ্বেষী স্লোগানগুলোর নিন্দা জানায়। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এটিকে অসহনীয় বলেন। মন্তব্য করেন, ‘উগ্র মানসিকতার মানুষ ফুটবলকে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করে।’

ফিফার শাস্তির সিদ্ধান্তের নথিতে দেখা যায়, স্পেনের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের সমর্থনে যুক্তি দিয়েছিল। তারা জানায় স্লোগানগুলোকে বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি বা শাস্তিমূলক কমিটি যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিটির সদস্যরা উল্লেখ করেন, স্টেডিয়ামের ভেতর বৈষম্যবিরোধী আচরণকে স্বীকার করে নেয়া, আর অন্যদিকে এই স্লোগানগুলোকে সম্পূর্ণ ক্ষতিকর নয় বলে দাবি করা, এই দুটি অবস্থান একসঙ্গে চলতে পারে না।

এখন স্পেনকে পরের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি এমনভাবে খেলতে হবে, যেখানে স্টেডিয়ামের মোট ধারণক্ষমতার ১৫ শতাংশ অংশ দর্শকদের জন্য বন্ধ থাকবে। যার বড় একটি অংশ থাকবে গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারিতে।

এখানে একটি বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে। ফিফার অনুমোদন সাপেক্ষে, স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন আসনগুলোতে বিশেষ কোন গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষদের যেমন, পরিবার, শিক্ষার্থী কিংবা বৈষম্যবিরোধী সংগঠনের সদস্যদের বসানোর সুযোগ দিতে পারবে।

স্পেনের পরের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ২০২৭ জুনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলে এই শাস্তির বাস্তবায়ন আরও পিছিয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২৮ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের কোন একটি ফাঁকা সময়ে শাস্তি কার্যকর করা হবে।

মিশরের ফুটবল ফেডারেশনও স্লোগানগুলোর নিন্দা জানিয়েছিল। তারা একে ঘৃণ্য ও অগ্রহণযোগ্য বর্ণবাদী আচরণ অভিহিত করেছিল। জোর দিয়ে বলেছিল, অল্প কিছু দর্শকের এই কর্মকাণ্ড মিশরীয় ও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে কোন প্রভাব ফেলবে না।

বিষয়:ফিফা মিশর স্পেন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…