বিনোদন

‘খুব শিগগির ফিলিস্তিন মুক্ত হবে’

কানের মঞ্চে ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন গাজা’র দুই নির্মাতা

দুই ব্যক্তি outdoor setting এ হাসিমুখে দাঁড়িয়ে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

দুই ব্যক্তি outdoor setting এ হাসিমুখে দাঁড়িয়ে, একটি গাছের পাশে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

সদ্য অনুষ্ঠিত ৭৮তম কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতলো ফিলিস্তিনের গাজা নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন গাজা’। উৎসবের ‘আঁ সার্তে রিগা’ বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেলেন নির্মাতা দুই ভাই টারজান নাসের ও আরব নাসের।

সেরা পরিচালকের পুরস্কার প্রাপ্তির পর টারজান ও আরব এটি উৎসর্গ করেছেন ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি। বিশেষ করে তাদের মাতৃভূমি গাজায় থাকা মানুষের প্রতি।

তাদের পরিচালিত এই ক্রাইম থ্রিলার সিনেমাটি গেল সপ্তাহে কানে প্রিমিয়ার হয়। পরে উৎসবের সমাপনী দিনের আগের রাতে দেয়া হয় ‘আঁ সার্তে রিগা’ বিভাগের পুরস্কার। এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে পুরস্কার গ্রহণকালে টারজান নাসের বলেন:“প্রতিটি ফিলিস্তিনির জীবনই মূল্যবান, তাদের কণ্ঠস্বরও গুরুত্বপূর্ণ। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই ফিলিস্তিন মুক্ত হবে।”

পুরস্কার গ্রহণের সময় আরব নাসের বলেন, এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও কান-এ অংশ নিতে তারা দ্বিধায় ছিলেন। তখন তাদের মা বলেন:“না, না, না, তোমাদের যেতে হবে। ওদের বলো—গণহত্যা থামাও। আমরা আর পারছি না।”

২০১২ সাল থেকে জর্ডানে বসবাস করছেন দুই ভাই। এরপর থেকে কানে নিয়মিত অংশ নেন। ২০১৩ সালে তাদের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘কনডম লিড’ ছিল কান-এর প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রথম ফিলিস্তিনি ছবি। এছাড়াও রয়েছে ২০১৫ সালের ‘ডিগ্রেড ’এবং ২০২০ সালের ‘গাজা মন আমোর’।

‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন গাজা’– এর পটভূমি ২০০৭ সালের গাজা। যখন হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়। গল্পের কেন্দ্রে ইয়াহিয়া (অভিনয়ে নাদার আব্দ আলহায়) এক মাদক ব্যবসায়ী, যে গাজার বাইরে ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখে। এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর কাহিনি এগিয়ে যায় ২০০৯ সালে। তখন হামাস পুরো নিয়ন্ত্রণে, আর ইয়াহিয়া একটি সস্তা টিভি সিরিজে কাজ করছে—যা এক শহীদ যোদ্ধার জীবন নিয়ে বানানো।

`ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন গাজা’র একটি দৃশ্য

দ্য ন্যাশনাল-এর সমালোচক উইলিয়াম মুলালি এই চলচ্চিত্রকে বলেছেন, “একটি বহুস্তরীয়, আত্মবিশ্লেষণধর্মী চলচ্চিত্র যা পরিচয়, প্রতিরোধ এবং টিকে থাকার মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”

আরব নাসের রয়টার্স-কে বলেন,“বিশ্বজুড়ে দর্শকদের সামনে ফিলিস্তিনের কণ্ঠ, গাজার কাহিনি তুলে ধরার প্রয়োজন ছিল।”

চলচ্চিত্রের নামটি এসেছে এই বাস্তবতা থেকে যে “গাজার সবকিছু এখন শুধুই অতীত। ইসরায়েল গাজার সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে—উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত। স্মৃতি, গল্প, জীবন—সব উড়ে গেছে।”

চলচ্চিত্রটি এখন শুধু ফিলিস্তিনি জীবনের এক জ্বলন্ত দলিল নয়, বরং শিল্পের শক্তিতে যুদ্ধ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বদরবারে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদও। –দ্য ন্যাশনাল

বিষয়:আঁ সাঁর্তে রিগা কান চলচ্চিত্র উৎসব গাজা ফিলিস্তিন সিনেমা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…