আন্তর্জাতিক

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরাতে কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা: নেতানিয়াহু

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরাতে কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা: নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে স্থানান্তরের বিষয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সিএনএনকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ সুদান, সোমালিল্যান্ড, ইথিওপিয়া, লিবিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। গাজার ২০ লাখের বেশি মানুষের মধ্য থেকে কিছুসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে আশ্রয় দেওয়ার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ‘উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ’ চাইছে বলে দাবি করেছেন।

তবে আলোচনার অগ্রগতি বা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এখনো স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ সুদান সম্প্রতি ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনার খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর আগে সোমালিল্যান্ডও এ ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে দুই হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রহণ করতে তারা প্রস্তুত। তবে সুস্থ হওয়ার পর তাদের গাজায় ফিরতে হবে।

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা না দিলেও বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে পুনর্বাসনের পক্ষে বারবার কথা বলেছেন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪ কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তার দাবি, এটি ফিলিস্তিনিদের জোর করে বিতাড়ন নয়, বরং তাদের চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া। ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করতে আগ্রহী দেশগুলোকে নিজেদের দরজা খুলে দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

এদিকে, গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইসরায়েলি পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। শহরটিতে ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বসবাস করেন, যাদের অনেকে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বুধবারের আগের ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাজুড়ে অন্তত ১২৩ জন নিহত হয়েছেন।

একই সময়ে শতাধিক মানবিক সহায়তা সংস্থা গাজায় জরুরি ত্রাণ প্রবেশে বাধা এবং খাদ্যসংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ইসরায়েলকে সহায়তা ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের যোগাযোগ উপদেষ্টা শাইনা লো বলেন, ফিলিস্তিনিদের গাজার ভেতরে বা বিদেশে স্থানান্তরের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিনিদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ নিয়ে বিতর্ক
সাক্ষাৎকারে ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি এর সঙ্গে ‘অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে’ একমত। ধারণাটি বর্তমান ইসরায়েলের সীমানার বাইরে বিস্তৃত ভূখণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে মিসর, সৌদি আরব ও কাতার। দেশগুলো বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে এবং শান্তিপ্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

উল্লেখ্য,‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ নিয়ে শ্যারন গাল ও নেতানিয়াহুর কথোপকথনটি আই২৪ নিউজের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারে দেখা যায়নি। তবে নেতানিয়াহুর মন্তব্যসহ দীর্ঘ সংস্করণটি গাল তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন।

বিষয়:ইসরাইল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গাজা দেশ স্থানান্তর

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…