নেপালে বন্যায় ৯ বাংলাদেশিসহ শতাধিক বিদেশি পর্যটক আটকা

ছবি: সংগৃহীত
নেপালের মধ্যাঞ্চলের গোরখা জেলায় আকস্মিক বন্যায় শতাধিক বিদেশি ট্রেকার আটকা পড়েছেন। বন্যায় সেতু, পাহাড়ি পথ ও শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে বাংলাদেশি ট্রেকার মো. শাহাদাত হোসেনসহ নয়জন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্থানীয় কর্মকর্তা ভুবন রাজ ওঝা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, জনপ্রিয় মানাসলু ট্রেকিং রুটের বিভিন্ন এলাকায় এসব পর্যটক আটকা পড়েছেন। বন্যায় পথের কিছু অংশ ভেসে যাওয়ায় তাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার ১২ জন বিদেশিসহ মোট ৩২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নদীর পানির উচ্চতা কমতে শুরু করলেও মঙ্গলবারও উদ্ধার অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে নেপালের সেনাবাহিনী।
রোববার ভোরের আগে ভূমিধসে গোরখা জেলার বুধি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোরখা জেলার অবস্থান।
মানাসলু সংরক্ষণ এলাকার কর্মকর্তা ওঝা জানান, যেসব পর্যটক ফিরে যেতে চান, তাদের উদ্ধার করা প্রয়োজন। তবে যারা ট্রেকিং চালিয়ে যেতে চান, তারা নিরাপদ এলাকা থেকে যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারবেন। পথের বিভিন্ন স্থানে রেস্তোরাঁ ও চা-ঘর নিরাপদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, গোরখা জেলার জগৎ গ্রামে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশি ট্রেকার মো. শাহাদাত হোসেনসহ আরও আট বাংলাদেশি। বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে শাহাদাত জানান, তারা হেলিকপ্টারে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, আগের দিন থেকে তারা সেখানে আটকা পড়ে আছেন। গ্রামের ওপরের দিক থেকে নেমে আসা বন্যার পানি গ্রামের নিচের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তারা নিরাপদে থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। ধীরে ধীরে খাবারের সরবরাহ কমে আসছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানির সঙ্গে কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে ২০০টির বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে তিনটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে পাঁচ গ্রামবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
গোরখা জেলার নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি গোরখা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার ৪৫৭ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।






