জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে হুতিরা: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত।
সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা, এমন অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়িয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। এর পেছনে ইরানের ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক হামলা আরও জোরদার হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হুতিরা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর আবার হামলা শুরু করেছে। তার দাবি, ইরানের নির্দেশেই তারা সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামরিক সক্ষমতা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
ট্রাম্প লেখেন, হুতিদের কেউ একজনের বোঝানো উচিত যে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। তিনি ইতিমধ্যে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তবে নির্বাচনের পরও তিনি ক্ষমতায় থাকবেন এবং বিষয়টি ভুলে যাবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
তার এই বক্তব্যকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়বে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে, যুদ্ধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আশা করছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনমতও ট্রাম্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসির সাম্প্রতিক এক জরিপে প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা ঠিক হয়নি অথবা এ যুদ্ধের পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি ছিল না।
তবে ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত নেতিবাচক জনমত জরিপগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক সমাবেশগুলোতে বিপুল মানুষের উপস্থিতিই তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ।






