আন্তর্জাতিক

নারী নেতৃত্বাধীন দেশে করোনায় মৃত্যু কম ছিল: গবেষণা তথ্য

নারী নেতৃত্বাধীন দেশে করোনায় মৃত্যু কম ছিল: গবেষণা তথ্য

ছবি : সংগৃহীত।

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় পুরুষ নেতৃত্বাধীন দেশগুলোর তুলনায় নারী নেতৃত্বাধীন দেশগুলো তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। এসব দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কম রাখতে আগেভাগে নেওয়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘ভোগ অস্ট্রেলিয়া’র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুল ও ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতিবিদদের পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, নারী নেতৃত্বাধীন দেশগুলো মহামারির শুরু থেকেই তুলনামূলক দ্রুত ও সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছিল। বিশেষ করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগেভাগে লকডাউন কার্যকর করায় এসব দেশে মৃত্যুর সংখ্যা কম রাখতে সহায়তা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, মানুষের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে নারী নেতারা ঝুঁকি নিতে বেশি সতর্ক ছিলেন। অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা থাকলেও তারা দ্রুত লকডাউনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের ধরনও মহামারি মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, মহামারির সময় বিশ্বের ১৯টি দেশ নারী নেতৃত্বাধীন ছিল। বিপরীতে ১৭৪টি দেশের নেতৃত্বে ছিলেন পুরুষ।

নারী নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে নিউজিল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি দেশটিতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ২০২০ সালের ৮ জুন নিউজিল্যান্ডকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়।

ফিনল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সানা মারিনের নেতৃত্বও আলোচনায় এসেছে। মহামারি মোকাবিলায় তার সরকারের পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ২০২০ সালের আগস্টে তিনি সাবেক ফুটবলার মার্কুস রাইকোনেনকে বিয়ে করেন।

এ ছাড়া তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের করোনা মোকাবিলার পদক্ষেপকে গবেষণায় ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। জার্মানির তৎকালীন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের নেতৃত্বে দেশটির পরিস্থিতিও ইউরোপের অধিকাংশ দেশের তুলনায় ভালো ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়েছে। নারী নেতৃত্বের সঙ্গে ভালো ফলাফলের সম্পর্ক পাওয়া গেলেও এর পেছনে নেতৃত্বের ধরন, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

বিষয়:ইউনিভার্সিটি অব রিডিং ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুল করোনা ভাইরাস জেসিন্ডা আরডার্নে নারী নেতৃত্ব নিউজিল্যান্ড

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…