শেখ হাসিনাসহ ১১ পলাতক ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি

ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১১ পলাতক ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অন্য দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, মাহবুব উল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দণ্ডিত ব্যক্তিরা রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করায় সাজা ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, দণ্ডিত ব্যক্তিরা যাতে তাদের সম্পদ বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে না পারেন, সে জন্য দ্রুত সেগুলো সরকারি হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে ট্রাইব্যুনাল। সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থের অর্ধেক নিহতদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাজেয়াপ্ত সম্পদ বিক্রি করে পাওয়া অর্থের ৫০ শতাংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। এ অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সাজা কার্যকরের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ৩০ দিন সময় রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে আপিল না করলে পরবর্তী সময়ে আর আপিলের সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, আপিলের সময়সীমা শেষ হলে সাজা কার্যকরের আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। পলাতক দণ্ডিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হলে তাদের দণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ।






