শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের বুকিং বাতিল করল ফিনল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: সংগৃহীত
ফিনল্যান্ডের আল্টো ইউনিভার্সিটিতে আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ করা হলকক্ষের বুকিং বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা থাকায় এ নিয়ে আপত্তি ওঠে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের প্রচারপত্রে নাম থাকা ফিনল্যান্ডের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা ছিল। ‘বাংলাদেশ অ্যাট আ টার্নিং পয়েন্ট: ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এক্সট্রিমিজম’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের জন্য আল্টো ইউনিভার্সিটি স্কুল অব বিজনেসের একটি কক্ষ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বুকিং বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি ওয়াদা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফিনল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক আহাদ শিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ডিন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ই-মেইল পাঠিয়ে অনুষ্ঠানটি পর্যালোচনা এবং বাতিলের অনুরোধ জানান। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি এ উদ্যোগ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানস্থল বুকিংয়ের দায়িত্বে থাকা অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার মিরকা এলোভারা এক ই-মেইলে আহাদ শিকদারকে জানান, কক্ষটির বুকিং বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আদান-প্রদান করা ই-মেইলের কপিও পেয়েছে ডেইলি ওয়াদা।
এদিকে অনুষ্ঠানের প্রচারপত্রে নাম থাকা হেলসিঙ্কি সিটি কাউন্সিলর এলিনা কাউপ্পিলা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু পরে প্রচারপত্রে নিজের নাম দেখে বিস্মিত হন।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতি থাকায় অনেকেই তাঁকে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখবেন বলে মনে করেছিলেন। তবে তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না এবং কখনোই অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেননি। আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রচারপত্র থেকে নিজের নাম সরানোর দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
একইভাবে ভান্তা সিটি কাউন্সিলর সোলি এরিকসন আহাদ শিকদারকে পাঠানো ই-মেইলে জানান, অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে তিনি কখনো সম্মতি দেননি। তিনি লিখেছেন, আমি অনুষ্ঠানে অংশ নেব না এবং এটিকে সমর্থনও করি না। আয়োজকদের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।
অনুষ্ঠানের প্রচারপত্রে নাম থাকা শেখর আচার্যও জানান, ফিনল্যান্ডের কয়েকজনকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও পরে তারা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ডেইলি ওয়াদার হাতে আসা এক ই-মেইলে আচার্য বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে তারা প্রথমে অংশ নিতে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু বক্তাদের তালিকা ও অনুষ্ঠানের কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল দর্শক হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা, পরবর্তী সময়ে যে আয়োজন দাঁড় করানো হয়েছিল তাতে তাঁরা সম্মতি দেননি।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিষয়ে ফিনল্যান্ডের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।





