আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ বন্ধে ইরান-কাতার আলোচনায় যা উঠে এলো

যুদ্ধ বন্ধে ইরান-কাতার আলোচনায় যা উঠে এলো

ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের আলোচনায় উঠে এসেছে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব। পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

রোববার (১ নভেম্বর) কাতারের রাজধানী দোহায় তৃতীয় দিনের মতো দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ আলোচনা হয়। সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং এতে অগ্রগতিও হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষার জন্যও প্রস্তুত রয়েছে। দুই দিনের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেছিলেন, সম্ভাব্য চুক্তি হলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ও কাতারের আলোচকেরা একটি প্রস্তাব তৈরি করেছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে নির্বাচনের পর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার জানান, ইরানের ওপর নতুন করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তিনি কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাতের অবসান চান।

অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তাদের ওপর নতুন করে হামলা হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। দীর্ঘ আট মাসের এই সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।

যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনীও প্রস্তুতি জোরদারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।

এর আগে শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে শনিবার আলোচনা দোহায় স্থানান্তর করা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

তবে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও যুদ্ধ বন্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। আলোচনার অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে দুই দেশের পরবর্তী অবস্থানের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে।

বিষয়:আব্বাস আরাগচি ইসরায়েল কাতার ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্র

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…