মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

ছবি: এআই।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট হচ্ছে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ব্যালটে না থাকলেও নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করবে তার প্রশাসনের বাকি দুই বছরে কংগ্রেসের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য। আর সেই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি, মার্কিন শুল্কনীতি, বিনিয়োগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে জ্বালানি বাজারেও।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন পাল্টা শুল্কের হার ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এর আগে এই হার ৩৭ শতাংশ ঘোষণা করা হয়েছিল। চুক্তিতে মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য পাল্টা শুল্কের সুযোগ রাখার কথাও রয়েছে।
এ অবস্থায় মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে আরও বেশি তদন্ত, শুনানি ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বদলালেই বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কে পরিবর্তন হবে না। বাণিজ্যসংক্রান্ত কিছু ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকায় ট্রাম্প তার বিদ্যমান নীতি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশের উদ্বেগের জায়গা মধ্যপ্রাচ্য। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন নির্বাচনের পর ইরান ও ইসরায়েল প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থান কী হয়, তা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তেল ও এলএনজির আন্তর্জাতিক দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচে চাপ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি, ডলারের বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ে মার্কিন কূটনৈতিক অবস্থানও বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে ট্রাম্প তার নীতির পক্ষে আইনসভায় রাজনৈতিক সমর্থন বজায় রাখতে পারবেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহির চাপ বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। তবে কোনো ফলই বাংলাদেশের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা বা অসুবিধা নিশ্চিত করে না।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মূলত তিন কারণে: পোশাক রপ্তানির শুল্ক, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক।
তাই মঙ্গলবারের নির্বাচনে কোন দল কত আসন পেল, তার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য দেখার বিষয় হবে নির্বাচনের পর ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আসে।






