আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়মে অভিবাসীদের নতুন শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়মে অভিবাসীদের নতুন শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে বৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীরা চাকরি হারালে বা নিজে থেকে চাকরি ছেড়ে দিলে তাদের আর ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হবে না। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।

এমন বিধান রেখে নতুন একটি প্রস্তাবিত নিয়ম প্রকাশ করেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। ১০ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবটি প্রকাশ করা হয়।

বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ পান। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুযোগ বাতিল হবে।

ডিএইচএস বলছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অভিবাসীদের নন-ইমিগ্র্যান্ট মর্যাদা এবং যে চাকরি বা নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেয়েছেন, তার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ যে চাকরির ভিত্তিতে থাকার অনুমতি পাওয়া হয়েছে, চাকরি শেষ হলে সেই বৈধ অবস্থানের ভিত্তিও আর থাকবে না।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরশীল। নতুন নিয়ম চালু হলে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন কাজ খোঁজার সুযোগ কমে যাবে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাবের বিষয়টি স্বীকার করলেও ডিএইচএস বলেছে, তাদের ধারণা প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই সমান যোগ্য মার্কিন কর্মীদের দিয়ে এসব পদ পূরণ করতে পারবে।

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা কমিয়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুতেই ‘আমেরিকান পণ্য কিনুন এবং আমেরিকানদের নিয়োগ করুন’ (Buy American and Hire American) নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।

বিদেশি কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু হয়েছিল ২০১৭ সালে। চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি খোঁজা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিত এই ব্যবস্থা।

ডিএইচএস-এর দাবি, গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হলে বিভাগের প্রশাসনিক চাপও কমবে।

প্রস্তাবিত নিয়মে বিভিন্ন ধরনের কর্মভিসাধারী প্রভাবিত হতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা। ভারত ও চীনের বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য এই ভিসা ব্যবহার করেন।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও চিলির নাগরিকদের জন্য এইচ-১বি১ (H-1B1), অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য ই-৩ (E-3), বিজ্ঞান, ক্রীড়া ও শিল্পকলায় অসাধারণ দক্ষতার অধিকারীদের জন্য ও-১ (O-1) ভিসাও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় রয়েছে।

কানাডা ও মেক্সিকোর যোগ্য পেশাজীবীদের জন্য টিএন (TN) ভিসা, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের ই-১ (E-1) ও ই-২ (E-2) ভিসা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের জন্য এল-১ (L-1) ভিসাধারীরাও এতে প্রভাবিত হতে পারেন।

তবে নিয়মটি এখনো কার্যকর হয়নি। প্রস্তাবটির ওপর দুই মাস জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। এরপর পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে এটি চূড়ান্ত হয়ে কার্যকর হতে পারে।

বিষয়:ট্রাম্প প্রশাসন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…