বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে কাজের অনুমতির জন্য সুপারিশ করলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে হবে ৭০ হাজার ডলার। পরবর্তী প্রতিটি সুপারিশ ও অনুমোদিত মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে দিতে হবে ৩০ হাজার ডলার।
বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইক।
বুধবার এ প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। এতে দেশটিতে পড়াশোনা করা কয়েক লাখ বিদেশি শিক্ষার্থীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমান নিয়মে এফ-১ ভিসাধারী যোগ্য শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজে সর্বোচ্চ ১২ মাসের অস্থায়ী অনুমতি পান। আর যোগ্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত অর্থাৎ স্টেম বিষয়ে স্নাতকরা অতিরিক্ত ২৪ মাসের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ পান।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ফি পরিশোধ না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কোনো শিক্ষার্থীকে অপশনাল প্রাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি-এর জন্য সুপারিশ করতে পারবে না। এমনকি ফি না দেওয়া হলে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা (ইউএসসিআইএস) কাজের অনুমতিও প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ওপিটি ব্যবস্থায় প্রতারণা ঠেকানো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাইয়ে উৎসাহিত করা এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষাই এই ফি আরোপের উদ্দেশ্য।
বিভাগটি আরও বলেছে, ওপিটি-তে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমিয়ে এমন শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া হবে, যারা প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ বা চাকরিতে যুক্ত হওয়ার যোগ্য।
তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, বড় অঙ্কের এই ফি শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাদের OPT-এর জন্য সুপারিশ করবে, সে বিষয়ে আরও কঠোর হতে পারে।
এসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস-এর প্রধান ফান্তা আও বলেন, নতুন ফি কাঠামো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা জুজানা উটসন বলেন, প্রস্তাবিত ফি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় আর্থিক বাধা তৈরি করবে। এতে বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করা দক্ষ গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগের সুযোগ কমতে পারে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নথিতে ওপিটি ব্যবস্থায় প্রতারণার বেশ কিছু উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, ২০২৪ সালে প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী ওপিটি-তে অংশ নিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ কম খরচে কাজ করায় মার্কিন কর্মীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন বলেও দাবি করেছে প্রশাসন।
তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর বক্তব্য, ওপিটি-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে স্টেম-এর মতো উচ্চ চাহিদার ক্ষেত্রে তাদের অবদান মার্কিন অর্থনীতি ও উদ্ভাবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও দাবি করা হয়েছে।






