ডিভি লটারির নিবন্ধন পুনরায় চালুর নির্দেশ, গ্রিন কার্ড মিলবে?

ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক। নির্ধারিত সময়ে আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নিবন্ধন চালুর নির্দেশ এলেও নির্বাচিত আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ড পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জিনসুক ওহটা গত ১৪ অক্টোবর একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ওই আদেশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও পররাষ্ট্র দপ্তরকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিবন্ধন কার্যক্রম ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত চালু রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্লুমবার্গ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের আদেশে নির্বাচিত আবেদনকারীদের অবহিত করা এবং কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী তাদের আবেদনসংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অভিবাসন আইন সংস্থা ‘রেড ঈগল ল’-এর দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ আসে। মামলায় ২০২৭ অর্থবছরের ডিভি লটারির নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারের ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, সরকার যুক্তি দিয়েছিল, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লটারি আয়োজনের জন্য ইতোমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
নির্বাচিত হলেই কি মিলবে গ্রিন কার্ড?
আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর পথ তৈরি হলেও আবেদনকারীদের জন্য সময় কমে আসতে পারে। ডিভি-২০২৭ ভিসা বছর ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ফলে আবেদন যাচাই, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত, সাক্ষাৎকার এবং ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম সময় পাওয়া যেতে পারে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডাইভার্সিটি ভিসা ইস্যুর ওপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্থগিতাদেশ। গত ৩১ আগস্ট হালনাগাদ করা নির্দেশনায় দপ্তরটি জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলাকালে সব ধরনের ডাইভার্সিটি ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। তবে এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ভিসা ইস্যু করা হবে না বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।
আবেদনকারীদের জন্য এর অর্থ কী?
আদালতের নির্দেশ নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করলেও এটি গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। লটারিতে নির্বাচিত হওয়া, যোগ্যতা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আলাদা।
তাই নিবন্ধন চালুর নির্দেশকে ভিসা প্রদান স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। আদালতের আদেশ কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং ভিসা ইস্যুর ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে কি না, তার ওপরই আবেদনকারীদের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।






