স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহের পাশে বসে ছিল স্বামী, পরে ৯৯৯-এ ফোন

ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুরে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার কথা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা খুলে স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহের পাশে তাকে ধূমপান করতে দেখে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সীমা রানী দাস (২৫) চিনাশুকানিয়া গ্রামের উদ্ভব চন্দ্র দাসের (২৮) স্ত্রী।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রীকে হত্যার কথা ৯৯৯-এ ফোন করে জানান উদ্ভব। এরপর ঘরের বাতি নিভিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে স্ত্রীর মরদেহের পাশে বসে থাকেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় ডাকাডাকির পর দরজা খুললে পুলিশ তাকে মরদেহের পাশে ধূমপান করতে দেখে। পরে তাকে আটক করে এবং সীমার মরদেহ উদ্ধার করে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উদ্ভবের বাড়িতে গিয়ে একটি ঘরে তালা এবং অন্য ঘরের দরজা শিকল দিয়ে আটকানো দেখা যায়। উদ্ভবের বোনের স্বামী সুবল চন্দ্র দাস জানান, ঘটনার সময় উদ্ভবের বাবা বাড়ির অন্য একটি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি কিছু বুঝতে পারেননি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ভবকে হেফাজতে নেয়।
সুবল চন্দ্র দাস আরও জানান, মাদকের প্রতি আসক্তি বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি উদ্ভবকে একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। তিন মাস আগে তিনি সেখান থেকে বাড়ি ফেরেন। এর আগেও তাকে একাধিকবার পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এর আগে উদ্ভবের আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। মাদকাসক্তির কারণে প্রথম স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। পরে প্রায় দুই বছর আগে সীমাকে বিয়ে করেন তিনি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, সীমার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।






