যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে ৩০ বছর বয়সী এক ভারতীয় প্রযুক্তিবিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যার পর তিনি ভারতে থাকা তার প্রেমিকার কাছে স্ত্রীর মরদেহের ছবি পাঠিয়েছিলেন। ঘটনার প্রায় নয় মাস পর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত অবিনাশ নার্নে ওয়াশিংটনের বেলভিউ শহরে বসবাস করতেন। গত বছরের ২৭ অক্টোবর তিনি পুলিশে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী রাজিতা সাব্বিনেনি (২৭) বাথরুমে আটকা পড়েছেন এবং কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রাজিতাকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিকভাবে নার্নে দাবি করেছিলেন, তিনি কিছু সময়ের জন্য বাসার বাইরে ছিলেন এবং ফিরে এসে স্ত্রীকে বাথরুমে তালাবদ্ধ অবস্থায় পান। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই সময়ে বাসায় অন্য কারও প্রবেশের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরদিন কিং কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় রাজিতার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করে। ময়নাতদন্তে জানা যায়, শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পারেন, অবিনাশ নার্নের ভারতে এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্ক ছিল। ২০২৫ সালের জুনে পারিবারিকভাবে রাজিতাকে বিয়ে করার পরও ওই সম্পর্ক অব্যাহত ছিল। এমনকি তার প্রেমিকা বিয়ের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনার দিন নার্নে তার প্রেমিকার সঙ্গে অন্তত চারবার কথা বলেন। এর মধ্যে এমন সময়ও ছিল, যখন তিনি পুলিশকে বলেছিলেন যে তিনি বাথরুমের দরজা খোলার চেষ্টা করছেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি প্রেমিকার কাছে রাজিতার মরদেহের একটি ছবিও পাঠিয়েছিলেন। এ ছাড়া রাজিতার পাঠানো কয়েকটি বার্তাও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সেখানে তিনি স্বামীর তৈরি পানীয়ের স্বাদ অস্বাভাবিকভাবে তেতো বলে অভিযোগ করেছিলেন। মৃত্যুর দিনও তিনি একটি স্মুদির স্বাদ ‘ওষুধ’ ও ‘কাশির সিরাপের’ মতো বলে স্বামীকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
গত ৫ জুলাই অবিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে তিনি ৫০ লাখ ডলার জামিনে কারাগারে আটক রয়েছেন।







