মায়ের অবদানের কথা বলতে গিয়ে শান্তর কান্না

শান্তর চোখে জল, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় হিসেবে তার অনুভূতি প্রকাশ।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
বিশ্বজুড়ে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালিত হয় মা দিবস। সব মায়েদের এবং যারা মায়েদের মতো তাদের সম্মান জানাতে বিশেষ দিন। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসার জন্য কোনো আলাদা দিন-ক্ষণের প্রয়োজন না হলেও বিশ্বব্যাপী এই দিনটি পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস হিসেবে। দিনটিকে ঘিরে অন্য সকলের মতো বাংলাদেশের ক্রিকেটারটাও মায়েদের জানিয়েছেন সম্মান। ক্যারিয়ারে মায়ের অবদান কতটা স্বীকার করেছেন অকপটে।
মায়েদের প্রতি ক্রিকেটারদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরা আবেগঘন বার্তা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে মায়ের ভূমিকা স্মরণ করতে গিয়ে কেঁদেছেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
‘আম্মা সবসময় সামনে না আসলেও কিন্তু পিছন থেকে অনেকবেশি উৎসাহ দেন। প্রত্যেকটা সময় আমায় সাপোর্ট করেন। বিশেষ করে যখন খারাপ সময়টা গিয়েছে, আম্মার জন্য অনেক কষ্টের ছিল, কিন্তু এখন যেমনটা যাচ্ছে, তাতে আম্মা খুবই খুশি।’

‘এখনও আম্মা আমাকে নিয়ে চিন্তা করেন। ভাবেন কীভাবে আরও ভালো জায়গায় যেতে পারি, কীভাবে দলের জন্য ভালো কিছু করতে পারি, দেশের হয়ে ভালো কিছু করতে পারি। আসলে আমার ক্যারিয়ারে আম্মার অবদানই সবচেয়ে বেশি, যা মুখে বলে শেষ করার মতো নয়। কিন্তু কখনও এতটুকুও প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি কখনও পুরোটা প্রকাশও করতে পারবো না। আমার জীবনের বড় একটা পাওয়া আমার আম্মা, আমার মনে হয় প্রত্যেকটা মা-ই এভাবে সাপোর্ট করে, প্রত্যেকটা ক্রিকেটারকে।’
মাকে উদ্দেশ্য করে ২৫ বর্ষী অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমি জানি তুমি খেলাধুলা নিয়ে অনেকবেশি চিন্তা করো। তোমাকে বলতে চাই, আমাকে নিয়ে আসলে চিন্তা করার কোনো কারণ নাই। তোমার কাছে আমার এখন একটাই চাওয়া, তুমি শুধু আমার জন্য দোয়া করবা। আমি যেন সুস্থ থাকি এবং দেশের হয়ে ভালো কিছু করতে পারি।’
লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন মাকে নিয়ে বলেছেন, ‘আমার আম্মা যদি আমাকে ভাত উঠিয়ে না দেয়, আমি খেতে পারি না। আমি কতটুকু খাই সঠিক ওই পরিমাণ আম্মা খুব ভালো করেই জানেন এবং ঠিক অতটুকুই উঠিয়ে দেন। আমাদের অনেক কষ্ট করে বড় করেছে। কাজের জন্য সমসময় আব্বা আমাদের সঙ্গে থাকতে পারতেন না। পাঁচ ভাই-বোনকে আসলে আম্মাই ওই সময় অনেক কষ্টে বড় করেছে। আমাদের বড় করতে আম্মার অনেক নিবেদন, অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম ছিল।’
টপঅর্ডার ব্যাটার ২৩ বর্ষী তাওহীদ হৃদয় বলেছেন, ‘মা তুমি আমার জন্য যতটা করেছ, আমি যতদিন বেঁচে আছি সেটি আমার মনের ভিতর থেকে যাবে। আমার জন্য করা তোমার কষ্টগুলো সবসময় আমাকে সাহস যোগায়। মা তুমি সবসময় সুখে থাকো, ভালো থাকো এবং আল্লাহ পাক তোমাকে সবসময় ভালো রাখুক, এটাই আমার আশা। আমার জন্য দোয়া করো যেন তোমার ছেলে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারে এবং সবসময় যেন তোমার পাশে থাকতে পারে।’
মায়ের ঋণ কখনও শোধ হবার নয় উল্লেখ্য করে ওপেনার সৌম্য সরকার বলেছেন, ‘মায়ের ঋণ বা মায়ের ভালোবাসা তো আসলে কখনোই পূরণ করতে পারব না আমরা। সে আমাদেরকে যতটুকু দিচ্ছে সেটা তো কখনোই শেষ হওয়ার নয়। আমরা যতই বড় জায়গায় আসি বা যতই ভালো খেলি, এগুলো দিয়ে তো আসলে মায়ের ঋণ শোধ করা সম্ভব না। মা তুমি দীর্ঘজীবী হও, সবসময় এভাবে আমার পাশে থাকো এবং তোমার প্রতি ভালোবাসা অবিরাম।’






